সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঁদা না পেয়ে যুবদল নেতার নেতৃত্বে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। সেইসঙ্গে ঘরের আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভিডিওতে অভিযুক্ত ওই যুবদল নেতাকে দেখা গেলেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করছেন। রোববার দুপুরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অভিযুক্তরা হলো- রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সিহাব মিয়া ও মজনু মিয়ার লোকজন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খান দেশ স্বাধীনের পর থেকে ইসলামপুর গ্রামের সরকারি জায়গায় পরিবার- পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে ওই জায়গায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের নামে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এদিকে, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ওই জায়গা জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। এ পর্যায়ে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের বড় ছেলে আব্দুল গফফারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সে সময় পরিবারটি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই সূত্র ধরে রোববার দুপুরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতঘরে হামলা চালিয়ে ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় এবং আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে আব্দুল গফফার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিন ও সিহাব মিয়া আমার বাবার এ জায়গা দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। এনিয়ে থানায় আমি তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ও আসবাবপত্র সব লুট করে নিয়ে গেছে। এতে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাঙচুরের ভিডিও রয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি ঘটনাস্থলে যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার এসআই হাদী আব্দুল্লাহ বলেন, ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। মুক্তিযোদ্ধার ছেলের ঘরটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি।