বিশ্বজুড়ে অন্তত ৯টি দেশে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলও। সে ক্ষেত্রে ইরান বা পাকিস্তানের হাতে একই সমরাস্ত্র প্রযুক্তি থাকলে সমস্যা কোথায়? এ রকম প্রশ্ন যৌক্তিক হলেও তার উত্তর চাওয়া বা দেওয়ার মতো মেরুদণ্ডসম্পন্ন আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা এখন আর নেই। বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ঠিক করে দেবে কার কাছে কী ধরনের অস্ত্র কতটা থাকতে পারবে বা আদৌ থাকতে পারবে কি না। পছন্দ-অপছন্দের এই সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও দাপট বেশি ইসরায়েলের। তারা চায় মুসলমানপ্রধান কোনো দেশের হাতে পারমাণবিক প্রযুক্তি না থাকুক।
তাদের এই চাওয়ার নিজস্ব অনেক ব্যাখ্যা আছে। সেসবের সারকথা, মুসলমানপ্রধান এমন কোনো দেশ তারা দেখতে চায় না, যারা আরব ভূমিতে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ কায়েমে বিরোধিতা করতে পারে। মুসলমানপ্রধান কোনো দেশের হাতে এ রকম প্রযুক্তি থাকলে সেটা একই ধর্মাবলম্বীদের অন্যান্য দেশের কাছেও যেতে পারে বলে তাদের দাবি। ইসরায়েলের এই দুই বিবেচনার সঙ্গে ভারতের আরএসএস-বিজেপি পরিবারের সায় আছে। সে জন্যই নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ নিয়ে দুবার ইসরায়েল গেলেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে নিজেদের ঐতিহাসিক বিবাদ ও শত্রুতার সমীকরণে ভারতের এখনকার শাসকেরা ইসারায়েলকেও টেনে আনতে চায়। বিষয়টা উল্টোভাবেও বলা যায়, পারমাণবিক প্রযুক্তি বিষয়ে ইসরায়েল নিজের আন্তদেশীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে মৈত্রীর সুযোগ দেখছে। এভাবেই পাকিস্তানের জন্য নতুন এক দুর্ভাবনার জায়গা তৈরি হচ্ছে—খাজা আসিফ যে কথা খোলামেলা বলে ফেললেন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শঙ্কা পুরোনো কিছু খবরাখবরের আলোকেও যৌক্তিক মনে হয়। ১৯৮১ সালেও একবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ রকম খবর ফাঁস হয়েছিল, পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যৌথভাবে হামলা চালাতে ভারতকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ইসরায়েল—যেভাবে তারা সেই সময় ‘অপারেশন ব্যাবিলন’ নাম দিয়ে ইরাকের একটা রিঅ্যাক্টর ধ্বংস করেছিল। ইসরায়েল-ভারতের সেই সময়কার আলাপ-আলোচনা-উদ্যোগ নিয়ে ২০০৮ সালে ক্যাথরিন স্কট-ক্লার্ক এবং এড্রিয়ান লেভি বইও লিখেছিলেন।