ধূমপান কেবল ফুসফুস বা হৃদরোগের কারণ নয়, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
নতুন এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের মধ্যে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় অনেক বেশি।
গবেষকরা দাবি করছেন, তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন মস্তিষ্কের ডোপামিন নিঃসরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদের জন্ম দেয়।
গবেষণাটিতে বলা হয়েছে যে অনেক ধূমপায়ী সাময়িক মানসিক প্রশান্তি বা স্ট্রেস কমানোর অজুহাতে ধূমপান শুরু করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়। নিকোটিনের প্রভাব যখন শরীর থেকে কমতে শুরু করে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আরও বেশি দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা অনুভব করেন। এর ফলে তারা পুনরায় ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েন, যা একটি ভয়াবহ চক্রের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে, যারা মানসিক চাপ মোকাবিলায় ধূমপানকে সমাধান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন নিউমোনিয়া: কারা বেশি ঝুঁকিতে, লক্ষণ কী, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে কেবল শারীরিক সুস্থতাই নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিও ফিরে পাওয়া সম্ভব। যারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কেবল ক্যানসার বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে, ধূমপানের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের এই গভীর সম্পর্কের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: সামা টিভি।