ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাহিদ খান পাভেল নামের দর্শন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে কয়েক দফা মারধর করে তার মোবাইল ফোন, বাইকের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশি তত্ত্বাবধানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার ভোরে সাহরির সময় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরার। এর মধ্যে সর্দার নাদিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। পরবর্তী তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে যুক্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুয়েট ক্যান্টিনে সাহরি খেতে গিয়ে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ইন্ধনে ইফতার পার্টি এবং সম্প্রতি ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিয়ে পাভেলকে ডেকে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান হাসিব আল ইসলামসহ নেতা-কর্মীরা। এরপর এটি হাতাহাতিতে জড়ায় এবং পরবর্তী পাভেলকে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এনে কয়েক দফা পেটানো হয়। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল অভিযোগ করেন, তিনি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সাহরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে ছাত্রশক্তির হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিলেন। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জন তাকে কোনো কারণ ছাড়াই আটক করে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করে। তারা বাইকের চাবি দিয়ে মুখে ঘুষি মেরেছে। বেল্ট দিয়ে পিটিয়েছে। দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে মারধর করেছে। এমনকি মাটিতে ফেলে সারা শরীরে লাথিও দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, পাভেল জিয়া হলে থাকতেন এবং গত জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। এ কারণে তাকে বিভাগ ও হল থেকে বয়কট করা হয়েছিল। সম্প্রতি পাভেল ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন এবং ছাত্রলীগের পোস্টারিংও করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। সাইফুল্লাহ আরও বলেন, তাকে আটক করার পর মোবাইল ফোন চেক করতে বলা হলে তিনি ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজকে সাহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা পাভেলকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ এ জন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।’ এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্টের জন্য শাহবাগ থানাকে রিকোয়েস্ট করেছি। এখন তাকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। আমরা তার খোঁজখবর রাখছি। আর এ বিষয়ে অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews