শেরপুর শহরে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা কালোবাজারির বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে শহরের চাপাতলীস্থ ব্র্যাক অফিসের অদূরে ‘জেবীন রাইস প্রসেসিং’-এর একটি গোডাউন থেকে ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল জব্দ করা হয়। যার সরকারি বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোডাউন মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত বোরহান শহরের কসবা কাছারিপাড়া মহল্লার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে। অভিযান শেষে চালসহ পুরো গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দকৃত চালগুলো গত বছরের সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির। নিয়মানুযায়ী এগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করার কথা থাকলেও, অসাধু চক্র তা কম দামে কিনে পুনরায় সরকারি গুদামে বেশি দামে বিক্রি করার পাঁয়তারা করছিল। চলতি মৌসুমের বোরো চাল সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত নতুন চটের বস্তায় গত বছরের সিলমোহরকৃত চালগুলো ভরে ছালাবদলের কাজ চলছিল ওই গুদামে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হানা দেয়। স্থানীয়দের ধারণা, এই চক্রটি ইতোমধ্যে আরও অন্তত শত টন কালোবাজারির চাল কৌশলে সরকারি গুদামে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
শেরপুর খাদ্যগুদামের সংগ্রহ ও চলাচল কার্যক্রম কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, জব্দকৃত চাল ও চটের বস্তাগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। চাল সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন মিলে যেসব সরকারি বস্তা সরবরাহ করা হয়েছিল, অভিযুক্ত বোরহান হয়তো কোনো মিল থেকে সেগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান জানান, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক উপযুক্ত বিচারের জন্য জুডিশিয়াল আদালতে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামিকে দ্রুত আদালতে প্রেরণের জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি