বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি দুই ভিন্ন মহাদেশের দুই ভিন্ন চরিত্রের দল অস্ট্রেলিয়া ও মিশর। একদিকে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় সকারুজরা, অন্যদিকে বহুদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে মরিয়া আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী শক্তি মিশর।
২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় উঠেছিল তারা। এরপর একাধিক আসরে বিশ্বকাপে খেললেও সেই সাফল্য আর ছুঁতে পারেনি। এবার আবারও নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছে। মিশর আফ্রিকার অন্যতম সফল ফুটবল জাতি। সাতবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ী দলটি বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দেখাতে পারেনি। এবারের অভিযান তাদের জন্য গৌরব ফিরিয়ে আনার আরেকটি সুযোগ।
চলতি আসরে অস্ট্রেলিয়ার পথচলা ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরা। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে ২–১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করে। দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১–০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে নকআউটের টিকিট। শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে ১–০ গোলে হারলেও ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয়। তিন ম্যাচে ৩ গোল করেছে, হজম করেছে মাত্র ২টি।
অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণের প্রধান ভরসা মিচেল ডিউক। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে তিনি দলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ান নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে একের পর এক বিপদ সামলেছেন। মাঝমাঠে জ্যাকসন আরভিন ও আইডেন ও’নিল ম্যাচের ছন্দ ধরে রেখেছেন। তরুণ নেস্টোর ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ গতি আর সাহসী ফুটবল দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন।
মিশরের যাত্রা ছিল কঠিন পরীক্ষায় ভরা। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয়। শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে। তিন ম্যাচে ৪ গোল করেছে, হজম করেছে ৩টি।
মিশরের সেরা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড গোল করার পাশাপাশি আক্রমণের প্রতিটি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ওমর মারমুশও দুর্দান্ত ছন্দে থেকে সামনে বাড়তি শক্তি যোগ করছেন। মাঝমাঠে মাহমুদ হাসান ত্রেজেগে ও হামদি ফাতহি খেলায় ভারসাম্য এনে দিচ্ছেন। রক্ষণে মোহামেদ আবদেলমোনেম দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন, আর গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একের পর এক সেভ করে দলের আস্থা হয়ে উঠেছেন।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সামনে রূপকথার দেশ
-6a47721236c24.jpg)
অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচের কথা, নকআউটে কোনো ভুলের সুযোগ নেই। মিশর অভিজ্ঞ দল, আমরাও নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস করি।
মিশরের কোচ হোসাম হাসানের ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়া খুব শক্তিশালী এবং দারুণ সংগঠিত দল। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে।’ অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহও সতীর্থদের সতর্ক করেছেন, ‘একটি মুহূর্তই পুরো ম্যাচ বদলে দিতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।’
আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি অস্ট্রেলিয়া ও মিশর। বিশ্বকাপের মঞ্চেই হবে তাদের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কৌশলগত দিক থেকে ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সঙ্গে মিশরের বলের দখলভিত্তিক ফুটবলের দ্বৈরথ। সকারুজরা শারীরিক সক্ষমতা আর গতিকে অস্ত্র বানিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চাইবে। অন্যদিকে সালাহ, মারমুশ ও ত্রেজেগেকে ঘিরে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ে তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করবে মিশর।
দুই জাতির স্বপ্নের লড়াইয়ের একদিকে অস্ট্রেলিয়ার নতুন ইতিহাস লেখার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে আফ্রিকার গর্ব মিশরের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের মিশন। শেষ বাঁশি বাজার পর হাসবে সকারুজদের স্বপ্ন, নাকি পিরামিড দেশের পতাকা উড়বে শেষ আটের আকাশে।