বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল মার্কিন আদালতে

ছবির উৎস, Getty Images

Published

৪ ঘন্টা আগে

পড়ার সময়: ৩ মিনিট

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। বিচারক তার রায়ে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আইনি ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর দিয়েছে।

ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবারে এক রায়ে জানান, স্টেট ডিপার্টমেন্টের জানুয়ারি মাসে ঘোষিত এই নীতি ছিল "স্পষ্টতই বেআইনি"। এটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী, কারণ সেই আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রমের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্ব সরিয়ে নিয়েছে।

তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, "যে নীতিতে কেবল আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসী ভিসা দেওয়া ক্যাটাগরি অনুযায়ী পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা এই সংবিধিবদ্ধ আইনি কাঠামোর সরাসরি লংঘন।"

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এই সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ; ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়েসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো; বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো বলকান অঞ্চলের দেশগুলো; এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের ভিসা আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট সেসময় দাবি করেছিল, এসব দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীদের "পাবলিক চার্জ" হওয়ার অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁ রয়েছে।

তবে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বাংলাদেশ থেকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের আবেদন করে থাকেন

ছবির উৎস, Getty Images

ডেমোক্রেটিক সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিযুক্ত বিচারক ভার্গাস এই রায় দেন।

ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংস্থা এবং এসব নির্ধারিত দেশের নাগরিক ও স্বজনদের জন্য ভিসার আবেদনকারী মার্কিন নাগরিকদের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় এলো।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিবাসন নীতিতে বেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে "তৃতীয় বিশ্বের দেশ" থেকে অভিবাসন "স্থায়ীভাবে স্থগিত" করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, "স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে"।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত গত ২১শে জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছিল।

অন্যদিকে অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর মতে, সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বর্ণ বৈষম্যের আশঙ্কা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews