গণহত্যাকারী ইসরাইল দাবি করেছে যে, তারা ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যা করেছে। উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ডটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এ দাবি করেছেন। তার মতে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন।

তবে ইরান এখনও এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

যদি এই খবর নিশ্চিত হয়, তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর তেহরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলো। এর আগে হামলার প্রথম দিনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্বপরিবারে নিহত হন।

আলী লারিজানি কে

কয়েক দশক ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থায় একজন পরিমিত ও বাস্তববাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত আলী লারিজানি। তিনি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি যুদ্ধের এই আবহে দেশটির কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সাহায্য করছেন।

লারিজানি ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি সেখানকার বিশিষ্ট আমোলে ধনী পরিবারে সন্তান। একই সঙ্গে তিনি শক্তিশালী রাজবংশের সন্তান, যাদের টাইম ম্যাগাজিন একসময় ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

ইরানের এই ক্ষমতাধর নেতার বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় পণ্ডিত। লারিজানি ২০ বছর বয়সে ফারিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন, যিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনের মেয়ে ছিলেন।

অন্য অনেক সমবয়সীদের তুলনায় তার একটি ধর্মনিরপেক্ষ একাডেমিক পটভূমি ছিল; তিনি ইমানুয়েল কান্টের ওপর ফোকাস করে ওয়েস্টার্ন ফিলোসফিতে (পাশ্চাত্য দর্শন) ডক্টরেট শেষ করার আগে গণিত এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে তিনি সরকারে আসার আগে বিপ্লবী গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) যোগ দেন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবির প্রধান হন।

২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং ইরানের প্রধান পরমাণু আলোচক হন, তবে ২০০৭ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।

তিনি ২০০৮ সালে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং টানা তিন মেয়াদে পার্লামেন্ট স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অনুমোদন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

২০২৫ সালের আগস্টে লারিজানি পুনরায় সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে ফিরে আসেন এবং ইরানের নেতৃত্বের এক কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পুনরুত্থান করেন।

কত ক্ষমতাধর লারিজানি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার আগেই লারিজানিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব তথা প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পান তিনি। এর আগেও তিনি এ পদে সেবা দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

এবার আলী লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

এবার আলী লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

বিশেষ করে যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে লারিজানিকে দেশটির কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।  যাকে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা মনে করা হয়। একই সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আলী খামেনি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত লারিজানি তার অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। 

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাজ কী

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল হলো দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সংস্থা। এর প্রধান কাজ জাতীয় নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণ করা। দেশের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল ও নীতি তৈরি করে এই কাউন্সিল। 

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমও সমন্বয় করা হয় এই দপ্তর থেকে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের সমন্বয় সাধন করা হয়। 

বিদেশে নীতি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায়ও এই কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ আছে। আঞ্চলিক রাজনীতি, বৈদেশিক সম্পর্কের নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজের তদারকি করা হয়। 

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বা যেকোনো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বড় ধরনের সংকটে দেশের রণকৌশল কী হবে, তা-ও এই কাউন্সিল ঠিক করে। 

এই কাউন্সিলের প্রধান বা সভাপতিত্ব করেন সাধারণত দেশের প্রেসিডেন্ট। 

সূত্র: আলজাজিরা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews