একটি ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সামনে আসছে আরেকটি অনিয়ম ও অবিচারের ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির প্রত্যাশা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাস্তব পরিবর্তন আসার আগে মানুষকে আর কত ঘটনা দেখতে হবে।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে হানিয়া লেখেন, একের পর এক অবিচারের মধ্য দিয়ে মানুষকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। একটি মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন আরেকটি অন্যায় সামনে চলে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হানিয়ার পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও ও ছিল। সেখানে করাচির শাহরাহ-ই-ফয়সালে জিম্মি পাকিস্তানি নাবিকদের স্বজনদের একটি অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হস্তক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন ওই নাবিকরা। তাদের মুক্তির দাবিতে স্বজনেরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করে আসছেন।
নাবিকদের পরিবারের দাবি, একটি নির্ধারিত পদযাত্রার আগে পুলিশ তাদের কয়েকজনকে অল্প সময়ের জন্য আটক করেছিল। তবে পুলিশ বলেছে, তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে কর্মসূচির স্থান ছেড়ে যেতে অনুরোধ করেছে। তাদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করেছে পুলিশ।
জিম্মি নাবিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন তারকা। মাহিরা খান, সাবিনা ফারুক ও সংগীতশিল্পী তালহা আনজুমসহ অনেকেই তাদের দ্রুত উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কয়েক মাস ধরে একাধিক কর্মসূচি হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
এদিকে প্রকাশ্যে আসা কয়েকটি ভিডিওতে জিম্মি নাবিকেরা পাকিস্তান সরকারের কাছে তাদের উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকটের কথাও জানিয়েছেন তারা। নাবিক ও পণ্যসহ জাহাজটি মুক্তির বিনিময়ে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছে জিম্মিকারীরা।