দুই সেমিফাইনালের মধ্যে পার্থক্যটা যে আকাশ আর পাতালের হবে, সেটা আগে থেকেই অনুমিত ছিল। শেষমেশ হলোও তাই। আগের দিন পিএসজি আর বায়ার্ন মিউনিখ মিলে যেখানে করেছিল ৯ গোল, আতলেতিকো আর আর্সেনাল মিলে সেই একই মঞ্চে করেছে ২টি গোল, যার দুটিই আবার এসেছে পেনাল্টি থেকে। দুই দলই একটি করে পেনাল্টি পেয়েছে, ১-১ গোলের ড্র নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষ করেছে তারা।
আতলেতিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় আর্সেনাল খেলা শুরু করেছিল সুইডিশ স্ট্রাইকার ইয়োকেরেশকে নিয়ে। কাই হাভার্টজ ফিট না থাকায় তিনি হয়তো শুরু থেকে খেলতেন না। তিনি মার্টিন জুবিমেন্দির সঙ্গে পাস খেলার পর হানকো তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। সেখান থেকে পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। ইয়োকেরেশ নিজেই সেই পেনাল্টি নেন এবং ইয়ান ওব্লাককে পরাস্ত করেন।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আর্সেনালের হয়ে পেনাল্টিতে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেশ। তাকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে এই সুযোগ পায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আতলেতিকো। আদেমোলা লুকম্যান ও আন্তোয়ান গ্রিজম্যান কাছাকাছি সুযোগ পেয়েছেন। গ্রিজম্যানের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। লুকম্যান দুবার কাছাকাছি গিয়েও গোল করতে পারেননি।
এপ্রিলে কোপা দেল রে ফাইনালের শুট-আউটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আলভারেজ। তবে এবার আর ভুল করেননি তিনি। শক্তিশালী শটে ওব্লাককে বিভ্রান্ত করে সমতা ফেরান।
ম্যাচের শেষদিকে আর্সেনাল একটি পেনাল্টি পেয়েছিল। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। ডেভিড হানকো এবেরেচি এজেকে বক্সের মধ্যে স্পর্শ করেছিলেন। তবে ভিএআর দেখায় সেই স্পর্শ সামান্য ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয় আর্সেনাল।
আতলেতিকো দীর্ঘ সময় ভালো খেলেছে। তবে আর্সেনালের শক্ত রক্ষণ স্পেনের মাদ্রিদ থেকে তাদের ভালো অবস্থানে ফিরতে সাহায্য করেছে। ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ফেরার সুযোগ এখনো আর্সেনালের সামনে আছে।
দ্বিতীয় লেগ আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আর্সেনাল প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের বিরুদ্ধে খেলবে। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে শিরোপার লড়াইও চলছে তাদের। অন্যদিকে লা লিগায় তেমন কিছু না থাকায় সিমিওনে দলে অনেক পরিবর্তন আনবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।