বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিতর্ক কোনো নতুন বিষয় নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেধাতান্ত্রিক’ শাসনব্যবস্থা বা মেরিটোক্রেসি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেরিটোক্রেসি কি শুধু পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে? না, বস্তুত মেরিটোক্রেসি হলো দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতার সমন্বিত রূপ।
ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী মাইকেল ইয়ং তাঁর দ্য রাইজ অব মেরিটোক্রেসি বইয়ে উল্লেখ করেছিলেন, এ ব্যবস্থাও একসময় নতুন ধরনের অভিজাততন্ত্র তৈরি করতে পারে, যদি না এর সঙ্গে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনে সেই মেধা ও জবাবদিহির অবস্থান ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না?
বিশ্বের প্রথম মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা হিসেবে প্রাচীন চীনের সাম্রাজ্যিক পরীক্ষাপদ্ধতির কথাও উল্লেখ করা যায়। সেটি কনফুসীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলের আইসিএস এবং পাকিস্তান আমলের সিএসপি ছিল উচ্চ প্রতিযোগিতাভিত্তিক অভিজাত প্রশাসনিক কাঠামো।