সেপ্টেম্বর ১৯৫৯। শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সলোমন বন্দরনায়েকে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর গুলিতে নিহত হন। সেই শোকের সময় তাঁর স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিপক্ষ তাঁকে ব্যঙ্গ করে ডাকত ‘ক্রন্দসী বিধবা’। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় সেই ‘বিধবাই’ বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
শ্রীমাভো রাতওয়াত্তে দিয়াস বন্দরনায়েকে ১৯৬০ সালের ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসেও এটি ছিল এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। তখনো যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স কিংবা জার্মানির মতো পশ্চিমা গণতন্ত্রে কোনো নারী সরকারপ্রধান নির্বাচিত হননি। অথচ সদ্য স্বাধীন একটি ছোট এশীয় রাষ্ট্রই প্রথম দেখিয়ে দিল, একজন নারীও রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিতে পারেন।
গত শতকের ষাটের দশকের শুরুতে শ্রীলঙ্কার মতো একটি দেশে একজন নারীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে তাই শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি বিশ্বজুড়ে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।