একবিংশ শতাব্দীর এই তৃতীয় দশকে এসে বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব ও বহুমুখী বিদ্যুৎ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির অগ্নিমূল্য, ডলারের অভাবজনিত কারণে কয়লা, গ্যাস ও তেল আমদানিতে জটিলতা এবং দেশের অভ্যন্তরে নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের রিজার্ভ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের রূঢ় বাস্তবতা। এই তীব্র বিদ্যুৎ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন আর কেবল বিলাসী আলোচনা নয়, বরং টিকে থাকার অবধারিত কৌশল।
সমকালীন বিশ্বে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য অন্যতম প্রধান নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ বিগত এক দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভূতপূর্ব সক্ষমতা অর্জন করলেও, প্রাথমিক জ্বালানির (যেমন- গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানি) তীব্র সংকটের কারণে লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধানে সৌর বিদ্যুৎ, বিশেষ করে রুফটপ/ছাদে সৌরবিদ্যুৎ একটি যুগান্তকারী এবং সময়োপযোগী বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘকাল ধরে আমদানিকৃত এবং দেশীয় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাতে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ডলার সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লা আমদানি করা সরকারের জন্য চরম ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রেখে বিপুল পরিমাণ ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া দিতে হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চরম আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর বারবার বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের তীব্র ওঠানামা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বাংলাদেশে মূলত তিন ধরনের সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে: ১. সোলার হোম সিস্টেম : অফ-গ্রিড গ্রামীণ এলাকায় আলো জ্বালানোর জন্য ব্যবহৃত অত্যন্ত সফল একটি প্রকল্প, তবে এর মাধ্যমে বড় শিল্পকারখানার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। ২. ইউটিলিটি-স্কেল সোলার পার্ক: বড় আকারের গ্রাউন্ড-মাউন্টেড প্রকল্প, যা সরাসরি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তবে এর জন্য শত শত একর জমির প্রয়োজন হয়, যা বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ৩. রুফটপ সোলার (ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ): বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি, যা কোনো অতিরিক্ত জমি গ্রাস না করেই নগরের বহুতল ভবন এবং শিল্পকারখানার ছাদকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প, টেক্সটাইল, এবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী খাতের কারখানাগুলোর ছাদের ক্ষেত্রফল বিশাল। এই ছাদগুলোতে মেগাওয়াট স্কেলের রুফটপ সোলার স্থাপন করা সম্ভব। এতে গ্রিডের বিদ্যুতের চেয়ে সৌর বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ অনেক কম। ফলে কারখানার পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ইউরোপ ও আমেরিকার আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন কারখানাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারখানায় রুফটপ সোলার থাকলে তা কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। দিনের বেলা পিক-আওয়ারে লোডশেডিং হলেও সোলার প্যানেল কারখানার একটি বড় অংশের লোড সচল রাখতে পারে, যা জেনারেটরের ব্যয়বহুল ডিজেল খরচ বাঁচায়।
রুফটপ সোলার প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক। সাধারণত একটি সোলার প্যানেলের আয়ুষ্কাল ২৫ বছর হয়ে থাকে। যেখানে প্রাথমিক বিনিয়োগ বা পে-ব্যাক পিরিয়ড মাত্র ৪ থেকে ৬ বছর। বাকি ২০ বছর গ্রাহক নামমাত্র খরচে বিদ্যুৎ পেয়ে থাকেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মূলত দুটি ব্যবসায়িক মডেলে রুফটপ সোলার বাস্তবায়িত হচ্ছে: ক্যাডেক্স মডেলÑভবনের মালিক বা কারখানার নিজস্ব মালিকানা। ওপেক্স বা পিপিএ মডেলÑতৃতীয় পক্ষ বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব খরচে সোলার স্থাপন করে।বিনিয়োগকারী কোম্পানি সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে।
জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গড়ে তুলতে যেমন দীর্ঘ সময় লাগে, তেমনি এর পরিবেশগত ক্ষতিও ব্যাপক। এছাড়া গ্রিডলাইনের ত্রুটি এবং সিস্টেম লসের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন। এই পরিস্থিতিতে সৌর শক্তি এমন একটি বিকল্প যা প্রাকৃতিকভাবেই উন্মুক্ত, নিখরচায় প্রাপ্য এবং পরিবেশবান্ধব। বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সারা বছর প্রচুর সূর্যালোক পায়। বাংলাদেশ একটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ হওয়ায় এখানে বছরে প্রায় ৩০০ দিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। গড়ে প্রতিদিন প্রতি বর্গমিটারে ৪.৫ থেকে ৫.০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা সৌর বিকিরণ পাওয়া যায়, যা সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত আদর্শ। এই অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে গ্রিডের ওপর চাপ কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
রুফটপ সোলার বা ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন হলো বর্তমান সময়ে সবচেয়ে দ্রুত ও সহজে বাস্তবায়নযোগ্য সমাধান। সরকারি ভবন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোর ছাদ সোলার প্যানেলের আওতায় আনা হলে দিনের বেলার পিক-আওয়ারের বিদ্যুতের চাহিদা অনেকাংশে মেটানো সম্ভব। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীর মতো বড় বড় মেগাসিটি থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত লাখ লাখ বহুতল ভবন, শিল্পকারখানা এবং সরকারি দপ্তরের ছাদ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এই ছাদগুলোকে একেকটি মিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা সম্ভব। বিশেষ করে অফিস-আদালত যখন সচল থাকে, ঠিক তখনই সূর্যের আলো সবচেয়ে তীব্র থাকে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যবহার হয়ে যায়, কোনো ব্যাটারি স্টোরেজের প্রয়োজন পড়ে না।
বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎকে মূলধারায় নিয়ে আসতে হলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। উচ্চমানের সোলার ইনভার্টার, প্যানেল এবং মাউন্টিং স্ট্রাকচারের ওপর থেকে সমস্ত প্রকার আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রুফটপ সোলারের জন্য জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুবিধা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। নতুন বাণিজ্যিক ভবন, সরকারি দফতর এবং বৃহৎ শিল্পকারখানার নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোট চাহিদার একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১০-১৫%) ছাদভিত্তিক সোলার থেকে উৎপাদন বাধ্যতামূলক করা উচিত। জাতীয় গ্রিডকে আধুনিকায়ন করতে হবে, যাতে এটি পরিবর্তনশীল সৌর বিদ্যুৎ সহজে গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপনে প্রণোদনা দিতে হবে। সোলার প্যানেল ও ইনভার্টারের আমদানির ওপর শুল্ক ও করের কারণে প্রাথমিক খরচ এখনো সাধারণ গ্রাহকের নাগালের বাইরে। সরকারকে এ বিষয়ে ঝুঁকি নিতে হবে। রুফটপ সোলারের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের হার এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ এখনো সীমিত। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে প্রতি ইঞ্চি জমির মূল্য অপরিসীম, সেখানে রুফটপ সোলারের জন্য আলাদা কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। বিদ্যুৎ যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে, সেখানেই ব্যবহার হচ্ছে। ফলে শত শত কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহনের যে অপচয় বা সিস্টেম লস তা শূন্যে নেমে আসে। এটি পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি হওয়ায় কলকারখানার কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে (বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায়) বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি করে।
রেললাইন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর দিয়ে গেছে। রেললাইনের পাশের সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কাছের গ্রামীণ সাব-স্টেশনে সরবরাহ করলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোডশেডিং দূর হবে। রেলওয়ের অবকাঠামো এবং রেললাইন সংলগ্ন বিশাল অব্যবহৃত জমিকে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনা বিশ্বজুড়ে একটি নতুন এবং অত্যন্ত কার্যকর ধারণা। ভারত, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশ ইতিমধ্যে রেলওয়ে সেক্টরে সৌর শক্তির সফল প্রয়োগ করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এটি একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে হাজার হাজার একর জমি রয়েছে, যার একটি বড় অংশ বেদখল হয়ে আছে অথবা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। রেললাইনের দুই পাশে যে ‘রাইট অব ওয়ে’ বা ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে লিনিয়ার সোলার পার্ক বা দীর্ঘ সারিবদ্ধ সৌর প্যানেল স্থাপন করা সম্ভব। এতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং বেদখল হওয়া থেকে জমি রক্ষা পাবে। দেশের বড় বড় রেলওয়ে স্টেশন (যেমন ঢাকা কমলাপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা বা নবনির্মিত কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন) এবং শত শত ইন্টারসিটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম শেডগুলোর আয়তন বিশাল। এই শেডগুলোর ওপর সোলার প্যানেল স্থাপন করে স্টেশনগুলোর নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা (আলো, ফ্যান, এসি, সিগন্যালিং সিস্টেম) সম্পূর্ণ মেটানো সম্ভব এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যেতে পারে। সরাসরি রেললাইনের ওপর বা স্লিপারে সোলার প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে। প্রযুক্তির আধুনিকায়নে এখন সরাসরি দুই রেললাইনের মাঝখানের খালি জায়গায় বা স্লিপারের ওপর বিশেষ ধরনের সৌর প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে (যেমন সুইজারল্যান্ডের সানওয়েজ কোম্পানির প্রযুক্তি)।বাংলাদেশের ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। যদি এর একটি অংশকেও এই প্রযুক্তির আওতায় আনা যায়, তবে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতি বছর বিদ্যুৎ বিল বাবদ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে এই পরিচালন ব্যয় ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব। বাংলাদেশ রেলওয়ে ধীরে ধীরে আধুনিকায়নের দিকে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। রেললাইন সংলগ্ন সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ওভারহেড ক্যাটেনারি লাইনে সরবরাহ করে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে, যা আমদানিকৃত ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
বাংলাদেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট কেবল সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের দীর্ঘদিনের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতার একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। এই সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তির চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তির টেকসই ব্যবহারের মধ্যে। রেলের লাইন/জায়গা ব্যবহার করে কিংবা রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিই নয়, এটি বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশের শিল্প ও আবাসিক খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। সরকার, বেসরকারি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের আপামর জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। ভবনের অব্যবহৃত ছাদগুলোকে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা যায়, তবে বাংলাদেশ আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবে।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক।