রাজধানীর খুচরা বাজারে মাছ, মুরগি ও বেশির ভাগ সবজির দাম এখনও চড়া। গত এক সপ্তাহে বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও উচ্চমূল্যের চাপ থেকে স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে খরচ কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়েও দাম কমানোর সুযোগ নেই।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারে আগের সপ্তাহের দামই বহাল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস ধরেই বাজারে স্বস্তি নেই। আগে সপ্তাহে অন্তত এক দিন মাছ ও এক দিন গরুর মাংস কিনতেন। এখন সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। তাই প্রতিটি কেনাকাটায় হিসাব কষে চলতে হচ্ছে।

মাংসের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও দাম এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল ও খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ইলিশ। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই ইলিশ না কিনে অপেক্ষাকৃত কম দামের মাছের দিকে ঝুঁকছেন।

মাছ বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, নদী ও সমুদ্র থেকে মাছের সরবরাহ থাকলেও পাইকারি বাজারে দাম কমেনি। তাই খুচরা বাজারেও আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের বেশির ভাগই ছোট আকারের মাছ কিনছেন।

বাজারে পাঙ্গাস প্রতি কেজি ২০০ টাকা, বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, কাতলা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কাচকি মাছ ৩০০ টাকা, মলা মাছ ২৮০ টাকা, বড় সুরমা ৩০০ টাকা, রূপচাঁদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির বাজারেও তেমন কোনো স্বস্তি নেই। মৌসুমি সবজির সরবরাহ থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। গোলআলু, টমেটো, বেগুন, করলা, পটল, লাউ, কাঁচা পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, কচুর লতি, ঢেঁড়শ ও বিভিন্ন ধরনের শাকের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

সবজি বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই।

বর্তমানে ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙ্গা, করলা ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা গৃহিণী নুসরাত শারমিন বলেন, আগে এক হাজার টাকায় কয়েক দিনের বাজার করা যেত। এখন একই টাকায় প্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দাম কমার অপেক্ষায় থাকলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ তথ্যেও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা চাল, খোলা সয়াবিন তেল, আমদানি করা রসুন, হলুদ, আদা, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন, আলু, দেশি পেঁয়াজ, দেশি রসুন, কাঁচামরিচ ও শসার দাম বেড়েছে। তবে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews