ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর এই ভূগোল আবার হাজারো আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এক নয়া ময়দানে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে দেশের নানা এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ বা সরকারি অফিসের সামনে ইন্টেরিমের টানানো কিছু প্লাস্টিক ব্যানার চোখে পড়েছিল। রাষ্ট্রের সংস্কারের সপক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সরকারি প্রচারণা। বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’।
সরকারি এই আহ্বান আশার বুদ্বুদ তৈরি করলেও গ্রামে বহুজন আমায় প্রশ্ন করেছেন এই ‘আপনারা’ কারা? এর ভেতর কি দেশের কৃষক, জেলে, বনজীবী, জুমচাষি, ভূমিহীন, কৃষিমজুর কিংবা নানামুখী খাদ্য উৎপাদকেরা আছেন?
দেশের চাবি যদি জনগণের কাছে থাকে, তবে কৃষির চাবি কৃষকের কাছে থাকার কথা; কিন্তু তা কৃষকের কাছে নেই। ষাটের দশকেই সবুজ বিপ্লব নামের বৈশ্বিক প্রতারণার মাধ্যমে কৃষকের হাত থেকে সেই চাবি ছিনতাই করে জিম্মি করা হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানি, এজেন্সি, বহুপক্ষীয় ব্যাংক, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা, মিডিয়া কিংবা বিদ্যায়তন নানাভাবে এই ‘নিওলিবারেল’ কৃষিদখলকে বৈধতা দিয়েছে।
কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা এবং কৃষকসমাজ এখনো পরাধীন। কৃষিজমি প্রতিদিন দখল হচ্ছে। ‘আধুনিক কৃষি’র নামে বহুজাতিক কোম্পানির উপকরণনির্ভর বৈষম্যমূলক কৃষিব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত ও বৈচিত্র্যবিমুখ ‘খাদ্যপণ্য’।
রাষ্ট্রই এই হন্তারক কৃষিপ্রক্রিয়াকে জারি রেখেছে। পা ফাটিয়ে, মাথা ঘামিয়ে কৃষির উৎপাদন খরচের প্রায় বেশির ভাগটাই চলে যাচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি এবং তার দেশীয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে। কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে আছে ‘নিওলিবারেল হেজিমনি’। নির্বাচিত সরকার কি কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার এই ‘হেজিমনি’ চুরমার করে দাঁড়াবে? কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থাবিষয়ক প্রস্তাবিত, প্রকাশ্য, আড়াল কিংবা গুম হওয়া সব জনবয়ান ও বিবরণের প্রতি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মনোযোগী হবেন, বিশ্বাস রাখি।