আহসান হাবিব বরুন
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ঘিরে যে কল্পনার বিলাস চলছে, তা কোনোভাবেই রাজনৈতিক বাস্তবতা নয়; বরং হলিউডের কোনো অতিনাটকীয় থ্রিলার মুভির চিত্রনাট্য বলেই মনে হচ্ছে। কোথাও বলা হচ্ছে তিনি গোপনে সীমান্তে অবস্থান করছেন, কোথাও বলা হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশ নাকি তার প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত, আবার কেউ দাবি করছে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো নাকি যেকোনো মুহূর্তে নাটকীয় পালাবদল ঘটাতে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে “ব্রেকিং নিউজ” ছড়াচ্ছেন, যেন আগামী ভোরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পাল্টে যাবে। ইউটিউবভিত্তিক কিছু কথিত বিশ্লেষক ও প্রবাসী প্রচারক এমন নিখুঁত কৌশলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন যে সাধারণ মানুষের পক্ষে সত্য-মিথ্যা আলাদা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ এসব গল্পের সঙ্গে বাস্তবতার দূরতম সম্পর্কও নেই। এগুলোর অধিকাংশই রাজনৈতিক হতাশা, আবেগ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজবের মিশ্রণ। দুঃখজনক হলেও সত্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অগণিত মানুষ এসব কল্পকাহিনিকে বিশ্লেষণ ভেবে গ্রহণ করছেন এবং ধীরে ধীরে একটি বিকল্প মিথ্যা বাস্তবতার ভেতরে প্রবেশ করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, রাজনীতি কখনো ইউটিউবের “ব্রেকিং নিউজ” বা ফেসবুক লাইভের আবেগ দিয়ে পরিচালিত হয় না। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় ক্ষমতার বাস্তব ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক স্বার্থ, জনগণের ম্যান্ডেট এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে। আর সেই বাস্তবতাই বলছে—বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইতোমধ্যে বদলে গেছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি করা কল্পনার সাম্রাজ্য যত বড়ই হোক না কেন, বাস্তবে এর কোন ভিত্তি নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার “ফেরার গল্প” হঠাৎ করে সামনে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট ভূরাজনৈতিক হিসাব, আঞ্চলিক শক্তির কৌশলগত উদ্বেগ এবং বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রভাবিত করার এক সূক্ষ্ম প্রচেষ্টা।

প্রশ্ন হচ্ছে, ঠিক এখনই কেন শেখ হাসিনাকে আবার সামনে আনা হলো?

খুব মনোযোগ দিয়ে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বিষয়টি জোরালো হয়ে ওঠে ঠিক তখনই, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একনেক বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেন। এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি, দক্ষিণাঞ্চলের ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গে জড়িত একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পদ্মা ব্যারেজ অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণাও দেন। একই সঙ্গে আগামী মাসে তার সম্ভাব্য চীন সফরের খবর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। আর ঠিক এই সময়েই ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি “মাথা উঁচু করে দেশে ফেরার” কথা বলেন।

এটি কি শুধুই কাকতালীয়?

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে কাকতালীয় বলে খুব কম কিছুই থাকে। বাস্তবতা হলো, তিস্তা শুধু একটি নদীর নাম নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অসমতা ও অবিশ্বাসের প্রতীক। বছরের পর বছর বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ কার্যকর সমাধানের বদলে দিল্লি বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ যদি পানি, বন্দর, জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রশ্নে বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের পথে এগোয়, বিশেষ করে চীনের মতো শক্তিকে সম্পৃক্ত করার ইঙ্গিত দেয়, তাহলে ভারতের কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ দিল্লি খুব ভালো করেই জানে—বাংলাদেশ যদি বিকল্প কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের পথে হাঁটে, তাহলে এই অঞ্চলে ভারতের একক প্রভাব বলয় খুবই দুর্বল হয়ে পড়বে। আর ঠিক এই কারণেই শেখ হাসিনাকে আবার সামনে আনা হয়েছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয়; বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা। বাংলাদেশের জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে—দিল্লির “বিশ্বস্ত অংশীদার” এখনো শেখ হাসিনাই। অর্থাৎ ভারত এখনো “হাসিনা কার্ড” পুরোপুরি ছেড়ে দেয়নি। বাস্তবতা হলো, ভারত শেখ হাসিনাকে কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখে না। দিল্লির কৌশলগত দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এমন একজন রাজনৈতিক অংশীদার, যিনি ভারতের বহু আঞ্চলিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থকে বাংলাদেশের ভেতরে বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করেছেন। ফলে শেখ হাসিনার পতন শুধু একটি সরকারের পতন নয়; এটি ছিল ভারতের দীর্ঘদিনের একটি নির্ভরশীল রাজনৈতিক কাঠামোর ভেঙে পড়ার ইতিহাস। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে বলা জরুরি। জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪০০ মানুষ হত্যার অভিযোগ এবং ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষকে গুরুতর আহত ও পঙ্গু করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। ফলে তিনি যদি সত্যিই দেশে ফেরেন, একজন নাগরিক হিসেবে আমি বরং সেটিকেই স্বাগত জানাব। কারণ তাহলে অন্তত বিচার প্রক্রিয়ার শেষ অধ্যায়টি জাতি দেখতে পারবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার শাসনামলে দেশের ভেতরে ঘটে যাওয়া বহু বিতর্কিত ঘটনার প্রকৃত সত্যও তখন বেরিয়ে আসতে পারে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ, পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত অভিযান—এসব ঘটনার পেছনে কারা ছিল, কার কী উদ্দেশ্য ছিল, কারা সহযোগিতা করেছিল—সেসব প্রশ্নের উত্তর জাতি জানতে পারবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করতে কোনো বিদেশি শক্তির ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও পরিষ্কারভাবে উঠে আসবে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা হলো—শেখ হাসিনা এবং তার একাংশ অনুসারী এখনো ভারতের কৌশলগত রাজনীতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তারা মনে করছেন ভারত তাদের আবেগের জায়গা থেকে সমর্থন দিচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবেগ বলে কিছু নেই; সেখানে কেবল স্বার্থ আছে। ভারত কখনোই কোনো ব্যক্তি বা দলকে ভালোবেসে সমর্থন দেয় না। তারা সমর্থন দেয় নিজেদের কৌশলগত প্রয়োজনকে। যে মুহূর্তে কোনো ব্যক্তি বা দল সেই প্রয়োজন পূরণে অকার্যকর হয়ে পড়ে, ঠিক সেই মুহূর্তেই নতুন বিকল্প খোঁজা শুরু হয়। আমি আগেও বলেছি, জীবিত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ভারত যদি সত্যিই তাঁকে ফেরত পাঠাতে চাইতো, তাহলে ৫ আগস্ট বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁকে রাতারাতি ভারতে সরিয়ে নেওয়া হতো না। বাস্তবতা হলো, যতদিন “হাসিনা কার্ড” ব্যবহার করা সম্ভব, ততদিন ভারত তাঁকে সামনে রাখবে। এটি আওয়ামী লীগের স্বার্থে নয়; এটি ভারতের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এখনো এদেশের একশ্রেণির মানুষ শেখ হাসিনার ফেরার জন্য প্রহর গুনছে। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে, কেউ প্রশাসনের ভেতরে তথাকথিত “গোপন সমর্থন”-এর গল্প বলছে, আবার কেউ সামরিক অস্থিরতার কল্পকাহিনি তৈরি করছে। বাস্তবতা হলো, এগুলোর অধিকাংশই রাজনৈতিক হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া কল্পনার বিলাসিতা মাত্র। আমি একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে স্পষ্টভাবেই বলতে চাই—শেখ হাসিনার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ন্যূনতম সম্ভাবনাও আমি দেখতে পাচ্ছি না। কারণ একটি মৌলিক বাস্তবতা সবাই ভুলে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সরকার নয়; এটি দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিক্রিয়া এবং গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। অতএব বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করে অতীতের একটি পতিত অধ্যায়কে পুনর্জীবিত করার অপচেষ্টা চরম বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে দেশে “রক্তগঙ্গা” বয়ে যাবে, লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে। কিন্তু বাস্তবে কি তাই হয়েছে? না। অর্থাৎ এসব বক্তব্য মূলত মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করার রাজনৈতিক কৌশল ছিল। হাসিনাকে ঘিরে এখনো তাই হচ্ছে। আরেকটি বিষয় আজ নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। শেখ হাসিনা বলেছিলেন—“আমি ভারতকে যা দিয়েছি, ভারত তা কখনো ভুলবে না।” তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মতো।” প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভাষা? নাকি ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থভিত্তিক নির্ভরতার ভাষা বাংলাদেশের জনগণ এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। কারণ মানুষ দেখেছে—ভারতের ট্রানজিট সুবিধা হয়েছে, ফেনী নদীর পানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা মেলেনি, ফারাক্কার সমস্যা সমাধান হয়নি, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের প্রশ্নে বিতর্ক হয়েছে—তবুও তখন “দেশ বিক্রি” শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। কিন্তু আজ যখন বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্ন উঠছে, তখনই “দেশ বিক্রি” তত্ত্ব সামনে আনা হচ্ছে। এটি মূলত জনগণের মনে বিভ্রান্তি তৈরির একটি রাজনৈতিক কৌশল। এখানে নিরপেক্ষভাবে একটি বিষয় স্বীকার করতেই হবে—ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সীমাবদ্ধতা আছে। আইনশৃঙ্খলা, মব সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রবাদ মোকাবিলায় ব্যর্থতার সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এটিও সত্য, তিনি বাংলাদেশের চরম সংকটময় সময়ে হাল ধরেছেন এবং অর্থনীতিকে ধ্বংসের কিনারা থেকে কিছুটা হলেও টেনে তোলার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। সাম্প্রতিক আরটিএ চুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে—বাংলাদেশের অর্থনীতি, তৈরি পোশাক শিল্প, উন্নয়ন সহায়তা ও মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতএব জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে একচোখা পররাষ্ট্রনীতি কখনোই দেশপ্রেম হতে পারে না। সেটি শেষ পর্যন্ত চাটুকারিতা ও আত্মঘাতী নির্ভরশীলতায় পরিণত হয়। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আরেকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা জরুরি—বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক হবে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের সঙ্গে দলটির ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বরং শেখ হাসিনামুক্ত একটি নতুন আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে—এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের স্বার্থে সেটি হওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি। কিন্তু সেই আওয়ামী লীগ হতে হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের। এমন একটি দল, যারা জুলাই অভ্যুত্থানের গণহত্যা, গুম, দমন-পীড়ন, ভোটবিহীন নির্বাচন ও লুটপাটতন্ত্রকে রাজনৈতিক ভুল নয়, বরং নৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখবে। যারা কর্তৃত্ববাদ থেকে প্রকাশ্যে দূরত্ব তৈরি করবে। কারণ শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল থেকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক যন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। সেখানে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জায়গা দখল করেছিল ব্যক্তিপূজা ও অন্ধ আনুগত্য। ফলে দলটি যদি ভবিষ্যতে জনগণের আস্থা ফিরে পেতে চায়, তাহলে তাদের সামনে একটিই পথ খোলা আছে—আত্মসমালোচনা, রাজনৈতিক পরিশুদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক রূপান্তর। কারণ গণতন্ত্রের জন্য শুধু শক্তিশালী সরকার নয়, একটি দায়িত্বশীল ও নৈতিক বিরোধী দলও সমান জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের পক্ষে আগের মতো একক প্রভাব বিস্তার করা আর সহজ নয়। তাই “হাসিনা কার্ড” ব্যবহার করে তারা একদিকে আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট সমর্থকদের আবেগ জিইয়ে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানসিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—যে রাজনীতি জনগণের ওপর না দাঁড়িয়ে, বিদেশী আশ্রয়ের ওপর দাঁড়ায়, তার পরিণতি কখনোই স্থায়ী হয় না। আজ শেখ হাসিনা হয়তো ভারতের কাছে একটি কৌশলগত সম্পদ। কিন্তু ইতিহাসের শেষ বিচারে তিনি মূল্যায়িত হবেন একজন বিতর্কিত শাসক হিসেবেই—যার শাসনামলে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আর ভারতও একদিন বুঝবে—কোনো দেশের জনগণকে পাশ কাটিয়ে কেবল একটি পরিবার বা একটি দলের ওপর ভর করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

ই-মেইল: [email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews