দুই মাসের পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফিরেই পাশের পেশিতে চোট পেয়েছেন ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী; আফগানিস্তান সিরিজের বাকি ম্যাচের পাশাপাশি এশিয়ান গেমসেও তাঁর খেলা অনিশ্চিত।
চোট যেন পিছু ছাড়ছে না বরুণ চক্রবর্তীর। দুই মাসের পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফিরেছিলেন ভারতের এই স্পিনার। কিন্তু ফিরেই আবার চোটে পড়েছেন তিনি। পাশের পেশিতে টান লাগায় চলমান আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন চক্রবর্তী। এশিয়ান গেমসে তাঁর অংশগ্রহণও এখন অনিশ্চিত।
রোববার রাতে নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের পুরো চার ওভারই বোলিং করেছিলেন চক্রবর্তী। ১৬ রানে নিয়েছিলেন একটি উইকেট। দুটি নো-বল ছাড়া বোলিংয়ে তাঁকে বেশ ছন্দেই দেখা যাচ্ছিল।
কিন্তু ম্যাচ শেষে পাশের পেশিতে চোটের কথা জানান তিনি। এরপর আর ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় টিম ব্যবস্থাপনা। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেঙ্গালুরুর উৎকর্ষ কেন্দ্রের চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করবেন চক্রবর্তী।
সেখানে তাঁর স্ক্যান করানো হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এশিয়ান গেমসে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না। তবে সময়টা ভারতের জন্য খুবই কম। ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি থেকে জাপানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ভারতীয় দলের। এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর।
এশিয়ান গেমসে নামার আগে ২২ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষে একটি দ্বিপক্ষীয় ম্যাচও খেলবে ভারত। ফলে চক্রবর্তীর চোটের ধরন ও সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ের ওপরই এখন তাঁর জাপানযাত্রা নির্ভর করছে।
এর আগে জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঝপথেই দেশে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেও খেলতে পারেননি। প্রায় দুই মাস বেঙ্গালুরুর উৎকর্ষ কেন্দ্রে পুনর্বাসন শেষে পুরোপুরি ফিট ঘোষণা করা হয়েছিল তাঁকে।
সেই ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই আফগানিস্তান সিরিজ ও এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা পেয়েছিলেন চক্রবর্তী। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই আবার চোট তাঁর জন্য নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
অদ্ভুতভাবে, ম্যাচের পর নিজের চোট নিয়েই কথা বলেছিলেন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের জীবনে চোট খুবই স্বাভাবিক। কখনো কখনো নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শরীরই থামিয়ে দেয়।
চক্রবর্তী বলেছিলেন, চোট মানে তাঁরা কাজ করছেন এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে শরীর যখন আর সাড়া দেয় না, তখন এক ধাপ পিছিয়ে গিয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করে শক্তিশালী হয়ে ফেরার চেষ্টা করতে হয়।
এখন সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষাতেই থাকতে হবে চক্রবর্তীকে। তবে এশিয়ান গেমসের আগে হাতে সময় এক সপ্তাহেরও কম থাকায় তাঁর জাপানযাত্রা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।