প্রচণ্ড ভূমিধসের পর এবার আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকা। আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানির ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে নতুন আতঙ্ক। ড্রোন ও স্যাটেলাইটে তোলা আকাশপথের চিত্রে দেখা গেছে, পাহাড়ি ধসের কারণে ওই এলাকায় আরও একটি নতুন কৃত্রিম হ্রদ (Lake) তৈরি হয়েছে।
নতুন গঠিত এই দ্বিতীয় হ্রদে হু হু করে পানি বাড়ছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় হ্রদটি ফেটে পুনরায় ভয়াবহ ঢল বা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে চীন ও নেপাল—উভয় দেশের সীমান্তেই উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
ড্রোন চিত্রে ফুটে উঠেছে আশঙ্কাজনক দৃশ্য
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসন পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।
চীন থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী দলের ধারণ করা ভিডিও ও আকাশপথের ছবিতে দেখা যায়, স্থানীয় একটি অববাহিকায় ঘোলা পানির বিশাল জলাধার তৈরি হয়েছে। প্রথম হ্রদটি থেকে পানি গড়িয়ে এসে জমা হচ্ছিল, তবে নতুন তৈরি হওয়া দ্বিতীয় হ্রদটি আয়তনে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে এটি ইতোমধ্যে প্রথম হ্রদের আকারকে ছাড়িয়ে গেছে।
আগে ঘটে গেছে প্রাণঘাতী বন্যা
গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও বিশাল ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে প্রবল স্রোতে কাদা, বালি, পাথর ও বিশালাকার শিলাখণ্ড ধেয়ে এলে এতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। নতুন তৈরি হওয়া দুটি জলাধারই সেই মূল দুর্ঘটনাস্থলের উজানে অবস্থিত। ফলে নতুন করে এগুলো ভেঙে পড়লে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে।
পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেপালি উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা দলগুলো আপাতত স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবির ওপর নির্ভর করছে। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপদগ্রস্ত নিচু অঞ্চলে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরে রাখতে শিগগিরই ক্যামেরা এবং বিশেষ সেন্সর স্থাপন করা হবে।
এর আগে শুক্রবার সকালের দিকে চীনের কর্তৃপক্ষ আকস্মিক ঢলের আশঙ্কায় তাদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। একই ঝুঁকিতে নেপালের দিক থেকেও ত্রাণ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন বৃষ্টিপাত শুরু হলে কৃত্রিম এই প্রাকৃতিক বাঁধ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।