আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা প্রকট হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। একই সাথে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের দাম কমে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩০২ দশমিক ২০ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এই দাম গত ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

অন্যদিকে, আগামী ডিসেম্বর মাসে ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে নিম্নমুখী প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তেলের দাম প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ডলারের সূচক দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর মাইকেল বার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি মাসের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে এমন সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৮ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগেও এই হার ছিল মাত্র ৩৭ শতাংশ।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৫৯ ডলারে এবং প্লাটিনাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭১৬ দশমিক ৫২ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দামও শূন্য দশমিক সাত শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এনএন/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

FAQ

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কেন কমেছে?

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং Fed-এর সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে।

সোনার দাম কতটা নেমেছিল?

২ সেপ্টেম্বরের লেনদেনে স্পট গোল্ড দিনের এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স ৪,৩০২.২০ ডলারে নেমেছিল, যা ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন। পরে ১১:৫৫ GMT-এ তা ৪,৩৩০.৭৯ ডলারে ছিল।

Fed সুদ বাড়ালে সোনার দাম কেন কমতে পারে?

সোনা সুদ দেয় না। সুদের হার বাড়লে সুদ-আয়কারী সম্পদের তুলনায় সোনার আকর্ষণ কমতে পারে।

Fed-এর সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কত?

CME FedWatch অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৮ শতাংশ

Fed-এর পরবর্তী বৈঠক কবে?

Federal Reserve-এর পরবর্তী FOMC বৈঠক ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারিত রয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews