বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই ভারতপ্রেমী ও ভারতবিরোধী দুটি গ্রুপ সরবে-নীরবে কাজ করছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন ভারতবিরোধিতাকে আদর্শ মনে করেন। অনেককে দেখা গেছে, দিনের বেলা সভাসমাবেশে উল্কার মতো ভারতবিরোধী, রাতে ভারতপ্রেমীদের ড্রইং রুমের আড্ডায়। কোনো কোনো দলের জন্য ভারতবিরোধিতাই তাদের মূল রাজনীতি। আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ভারতপ্রেমই তাদের রাজনীতি। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে উপচে পড়া ভারতপ্রেম অনুভব করা গেছে। চব্বিশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ঠিক এর উল্টো ঘটনা ঘটেছে। জলোচ্ছ্বাসের মতো ভারতবিরোধী আবেগে ভেসেছে সারা দেশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভারতবিরোধী ও ভারতপ্রেমীর মধ্যে বাংলাদেশপ্রেমী কতজন। বিশেষ করে যারা ভারতবিরোধিতার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন, তারাই কতজন বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন তারা বাংলাদেশপ্রেমী? ভারতবিরোধী হলেই যে দেশপ্রেমিক হবেন, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ইতোমধ্যে ষোলকলা পূর্ণ করেছে। অনেক দিনের টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ এখন তাদের দখলে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশের সীমান্তে কাঁটাতার বসাচ্ছেন। হয়তো আরও অনেক কিছুই করবেন। তিনি তাঁর দলের ও নিজের রাজনীতি করবেন, এটাই স্বাভাবিক। সে কারণে আমাদের স্বকীয় রাজনীতি ও দেশপ্রেমের মানোন্নয়ন করতে হবে। শুধু মুখে মুখে ভারতবিরোধিতাই দেশপ্রেম নয়।
বাংলাদেশ-ভারতের স্থলসীমানা ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এ সীমানায় গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ২৩৯ কিলোমিটার বেড়া দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ। শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো কলকাতা শাখার তথ্যমতে গত আগস্ট পর্যন্ত ৫৬৯ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি। এখন এই অসমাপ্ত বেড়া নির্মাণে তোড়জোড় শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণ করে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই শুভেন্দু বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১১ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন শুভেন্দু। জানা গেছে, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের ৯টি জেলায় অরক্ষিত সীমান্তে এ বেড়া নির্মাণ করা হবে। ওই আদালত মমতা সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে এই বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের সেই নির্দেশ এখন শুভেন্দু পালন করছেন। দুই দেশের সীমানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বেড়া নির্মাণ করতে চাইলে ভারত করতে পারে। তবে সেজন্য অবশ্যই শুভেন্দুকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে। মনে রাখতে হবে, অতীতের মতো শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভিতরে অননুমোদিত কোনো স্থাপনা তৈরি করতে গেলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অবিশ্বাস তৈরি হবে। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তির আলোকে ১৯৭৫ সালে প্রণীত সীমান্ত নীতিমালা অনুযায়ী শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভিতরে কোনো দেশই প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনা বা বেড়া নির্মাণ করতে পারবে না। এ সীমানার ভিতর কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে হলেও উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু অতীতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনোদপুর, নওগাঁর ধামইরহাট, লালমনিরহাটের দহগ্রাম ও মহেশপুরের মাটিলা সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের অননুমোদিত বেড়া নির্মাণ কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এদিকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা হবে। আমাদের কনসার্ন নিরাপত্তা এবং যেন পুশইন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।’ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ভয় দেখানোর মতো কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশে মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না। যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব। হাসিনা সরকারের আমলে যেভাবে সীমান্তে অনেক মানুষকে গুলি করে হত্যা বা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো আমরা দেখেছি, সীমান্ত কোনো দিন ওই নমুনায় আসবে না ইনশাল্লাহ। আর ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায়, এই বাংলাদেশ সেই গোলামির বাংলাদেশ নয় যে বসে দেখবে। কী করতে হবে সে বিষয়ে এই বাংলাদেশের পরিকল্পনা আছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সীমান্তে আবারও হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। সীমান্তে আবারও নতুন করে কাঁটাতার দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তে আমার দেশের জনগণকে হত্যা করে কেউ যদি বন্ধুত্বের কথা বলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্ভব নয়। কাঁটাতার দিয়ে কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায় না। এ কাঁটাতার সেই দেশের জনগণ এক দিন উপড়ে ফেলে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করার দায়িত্ব এই সরকারের। এ দেশের সরকার যদি ব্যর্থ হয়, জনগণ সেই দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেবে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের নদীর পানির ন্যায্য হিস্সা, সেটি আদায় করার দায়িত্ব আমাদের।’ কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গে সর্বশেষ মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন। সম্পর্কের গতিপথ ঊর্ধ্বমুখী করার লক্ষ্যে আমাদের আগ্রহ রয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের কাছেও ২ হাজার ৮৫০ জন অবৈধ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করতে বলা হয়েছে। এখনো বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য করেনি। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি বিএসএফকে দেওয়া হচ্ছে। ভারতের জন্য সীমান্ত সুরক্ষা অগ্রাধিকার।’ তিনি আশা করেন, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হবে না।
উল্লেখ্য, ভারতের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (ঝওজ) বা ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা কার্যক্রমে বিভিন্ন রাজ্যে বিপুলসংখ্যক ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ থেকে ২ কোটি ৮৯ লাখ, বিহারে ৪৭ লাখ থেকে ৬৫ লাখ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন মহলে বিতর্ক চলছে। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এসব মানুষকে যদি পুশ করার চেষ্টা হয় অথবা সীমান্তহত্যা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি নিশ্চিত। একটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরামের সীমানা আছে। এ রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের চেয়ে ভালো নয়। সে কারণে এসব রাজ্যে কাজের জন্য কোনো বাংলাদেশি অবস্থান করছেন বা করতে পারেন এমনটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। বাংলাদেশিরা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শুধু মালদ্বীপে কাজের সন্ধানে যাচ্ছেন। ওখানে বাংলাদেশের অনেক মানুষ কাজ করছেন। বরং আমাদের দেশে আইটি, গার্মেন্ট, বায়িংসহ অনেক টেকনিক্যাল সেক্টরে ভারতীয়রা কর্মরত আছেন। এদের অধিকাংশই অবৈধভাবে কাজ করছেন। তাদের কোনো ওয়ার্ক পারমিট নেই। বাংলাদেশ সরকারকে তারা কোনো প্রকার ট্যাক্স দিচ্ছেন না। ডলারে বেতন নিয়ে তারা দিব্যি আমাদের দেশে কাজ করছেন। আমাদের সরকারের এখন উচিত হলো এ ধরনের ভারতীয় যারা বাংলাদেশে বিনা অনুমতিতে কাজ করছেন তাদের তালিকা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। বাংলা ভাষাভাষী হলে বা মুসলিম হলেই বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করছে ভারত। বিজেপি সরকারের মনোভাবে মনে হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে এসব মানুষকেই পুশইন করা হতে পারে। এ অবস্থায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে হলে ভারতকে সুবিবেচকের ভূমিকা পালন করতে হবে এবং আমাদেরও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
ভারত যদি সীমান্তে অশান্তি তৈরি করে, মুসলমান হলেই পুশইন করে তাহলে দুই দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি বৃদ্ধি পাবে। ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে ভারতের সহায়তার সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দেশটি বারবার প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না করে দাদাগিরি করেছে। সে কারণে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবাপন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতিবেশী দেশটি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব¡পূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করেনি। ভারত সম্পর্ক রেখেছে শেখ পরিবারের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ওই ১৬ বছরে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে হয়নি, হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধেও। বিগত ৫৫ বছরের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থেকে ভারতবিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশে বেশি আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থার জন্য ভারতই দায়ী। দেশটি যদি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করত, তাহলে হয়তো এমন অবস্থা হতো না। এটা অবশ্যই ভারতের ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশে যেসব কূটনীতিক কর্মরত ছিলেন, ভারত হয়তো বর্তমান প্রেক্ষাপটের জন্য তাদের দিকে আঙুল তুলছে। সে কারণেই হয়তো রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদী নিযুক্ত হয়েছেন। ১৯৫০ সালে জন্ম নেওয়া একজন প্রবীণ ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিবিদ তিনি। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক রেলমন্ত্রী এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর থেকে লোকসভা এবং রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। বাংলা ভাষায় দক্ষ এই রাজনৈতিক নেতা পেশায় একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এবং ২০১৬-১৭ সালের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং পার্লামেন্টারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। দেখা যাক পেশাদার কূটনীতিকদের ব্যর্থতা একজন রাজনৈতিক নেতা কীভাবে উত্তরণ করেন।
প্রতিবেশী কখনো পরিবর্তন করা যায় না। ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী এটা মাথায় রেখেই চলতে হবে। আমাদের সরকারকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা করতে হবে। এতদিন অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের কারণে তিস্তা চুক্তি ভারত করতে পারেনি। এখন দেখার পালা বিজেপি সরকার কী করে। তিস্তা, গঙ্গা চুক্তিসহ সব বিষয়ে সম্মানজনক সমাধান চায় বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক। অবশ্য শুধু সমাধান চাইলেই হবে না, আমাদের বাংলাদেশপ্রেমী হতে হবে। আমাদের মধ্যে ভারতপ্রেমী, পাকিস্তানপ্রেমী, যুক্তরাষ্ট্রপ্রেমী, চীনপ্রেমী, ইরানপ্রেমী, তুরস্কপ্রেমীর সংখ্যা বেড়ে গেলে স্বভাবতই বাংলাদেশপ্রেমীর সংখ্যা কমে যাবে। ঐক্যের শক্তি হারাবে জাতি। ফলে বৃহৎ প্রতিবেশীর কাছ থেকে ন্যায্যতা পেতে হলে শতভাগ বাংলাদেশপ্রেমী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশপ্রেমের ঊর্ধ্বে কোনো প্রেম নেই। তবে বর্তমান কাঁটাতার আলোচনার প্রেক্ষাপটে কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজের ‘কেন এই পাসপোর্ট’ কবিতা খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি কবিতায় লিখেছেন, ‘পৃথিবীর সহোদর আমি পৃথিবী আমার, কেন এই পাসপোর্ট পাসপোর্ট, কাঁটাতার কাঁটাতার খেলা।’
♦ লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন