যমুনা-বাঙালি নদীবেষ্টিত বগুড়ার সারিয়াকান্দি-সোনাতলা এলাকায় নদীভাঙন রোধ ও চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন দ্বিতীয়বারে বিপুল ভোটে নির্বাচিত এমপি আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম। বিএনপি সরকার গঠন করার পর কৃষিনির্ভর দুই উপজেলার উন্নয়ন, সেচ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে দ্রুত কাজ করবেন তিনি।
পরিচ্ছন্ন এই রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এলাকার মানুষের ভালোবাসা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বিএনপির রাজনীতিতে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। নিজেকে ধরে রেখেছেন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে। কাজী রফিকুল ইসলামের মানবসেবা এবং স্বচ্ছা রাজনীতি এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।
জানা যায়, কাজী রফিকুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন থেকে বিএনপির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এই আসন আওয়ামী লীগ নানান কৌশলে দখলে নেয়। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কাজী রফিক সারিয়াকান্দি-সোনাতলা এলাকায় বিএনপিকে শক্তিশালী করেছেন। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির মধ্য দিয়ে তিনি সংগঠনকে এগিয়ে নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন এই নেতা কৃষিনির্ভর দুই উপজেলার উন্নয়ন, সেচ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি, নদীভাঙন রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে দ্রুত কাজ করবেন বলে জানান।
নবনির্বাচিত এমপি কাজী রফিক জানান, দীর্ঘদিন পর মানুষ অবাধে ভোট দিয়ে তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন। জনগণের সেই রায় তার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় দায়িত্বও।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করার পর কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের উন্নয়ন, সেচ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া নদীবেষ্টিত সোনাতলা-সারিয়াকান্দিতে নদীভাঙন রোধ ও চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর স্থাপন করার মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উন্নতি ঘটিয়ে যুগোপযোগী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গ্রামের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শহর পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারী, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর অবস্থান নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দেড় দশকের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলাকে আধুনিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। যাতে করে প্রতিটি নাগরিক সামাজিক সুরক্ষা পায়। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং উন্নয়ন হবে সর্বজনীন।
তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পরিবারের গৃহকর্ত্রীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রবর্তন করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি সুযোগ সুবিধা ও ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়া হবে। যমুনার তীরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। এখন সকল বঞ্চনার অবসান হবে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি