মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।
সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বিএবির নেতাদের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল হাই সরকার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ এই সংঘাতের কারণে বিঘ্নিত হলে তা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পরিস্থিতি কত দিন স্থায়ী হয়, তার ওপর নির্ভর করবে।’
তিনি জানান, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকটি মূলত পরিচিতিমূলক ছিল। এতে ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, নীতিগত সমন্বয় এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনরুজ্জীবন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিএবি চেয়ারম্যান বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতি গভর্নরের মনোভাব ইতিবাচক এবং ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে তিনি আন্তরিক।
প্রভিশন সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত এই পদ্ধতিকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।
এ ছাড়া আগামী ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। টেকসই ও কার্যকর প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।