ছাতক-সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগে ১৫ বছর ধরে দুর্নীতি, ঘুস, চাঁদা আদায় এবং সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন সেবুল মিয়া নামে এক নাগরিক।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ সচিব, ডিএফআই ও দুদকের মহাপরিচালকের কাছে ১৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র ও পত্রিকার কাটিং সংযুক্ত করে জমা দেন সেবুল।

২০১১–২০২৬: সরকারি মালামাল গায়েবের অভিযোগ তার অভিযোগপত্রে বলা হয়—২০১১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত উদ্ধারকৃত পুরাতন সরকারি তার, ট্রান্সফরমার, খুঁটি, কপার ও অ্যালুমিনিয়াম কোনো কিছুই সরকারি স্টোরে জমা না দিয়ে নিয়মিতভাবে পাচার করা হয়।

অভিযোগে নাম এসেছে বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় ঠিকাদার ও ভাঙ্গারি সিন্ডিকেটের।

ছাতক ও সিলেট বিভাগের কিছু প্রভাবশালী প্রকৌশলীর ছত্রছায়ায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শফিকুল–সিরাজুল চক্র কোটি টাকার মাল ভুয়া ভাউচারে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ছাতকের হাজী শহীদ তালুকদার ঢাকা মেট্রো–ড ১২-২৮৬৩ নম্বর ট্রাকে নিয়মিতভাবে নতুন তামার তারসহ অন্যান্য বরাদ্দকৃত মাল ঢাকায় কুমিল্লার জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করেছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায়ও একই সিন্ডিকেট সরকারি মাল বাজারজাত করেছে সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ 

জাইকা প্রকল্পে অ্যালুমিনিয়াম তারের কেলেঙ্কারি

২০১১ সালের জাইকা–অর্থায়নে ছাতক বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পে উচ্চমানের তামার তার সরিয়ে নিম্নমানের অ্যালুমিনিয়াম তার বসানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রকল্পের শর্ত ভঙ্গ করে কেবলমাত্র অতিরিক্ত লাভের উদ্দেশে এ কাজ করা হয়। এতে লাইন দুর্বল হয়ে পড়ে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়ে, কিন্তু অনিয়ম বন্ধ হয়নি।

‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রকল্পে ২৫–৩০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি 

২০১৮ সালের ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রকল্পে সিলেট বিভাগের ১৯ আসনে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস-এ গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে গিয়ে ৪শর বেশি গ্রাহক বছরের পর বছর সংস্কারের নামে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা বিচারাধীন থাকলেও সেটি ‘সমঝোতা’ করার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ আছে। 

গ্রেফতার–চার্জশিট এবং সমঝোতার অভিযোগ

ছাতকের দেওকাপন গ্রামে এক গ্রাহকের ঘরে সংযোগ দেওয়ার নামে চাঁদা দাবি করা হলে সেনাক্যাম্পের অভিযানে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলায় হাজী শহীদ তালুকদারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—অর্ধকোটি টাকার বিনিময়ে মামলা নিষ্পত্তির গোপন তৎপরতা চলছে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও বদলি–বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য 

অভিযোগে বলা হয়েছে—স্থানীয় রাজনৈতিক দালালচক্র ও যুবলীগ–আওয়ামী লীগ পরিচয় ব্যবহার করে সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বদলি–বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে। ফলে সৎ কর্মকর্তারা উপেক্ষিত হয়ে পড়েছেন।

উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি

ভুক্তভোগী গ্রাহক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নাগরিকরা ২০১১–২০২৬ সময়কালের সরকারি মালামালের অডিট জাইকা ও ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ প্রকল্পে ক্ষতি উদ্ধার

গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার টাকা ফেরত, বদলি–বাণিজ্য বন্ধে ব্যবস্থা চাইছেন। গত ২ মার্চ বিদ্যুৎ বিতরণ অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদেরকে বদলি করা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

২ মার্চ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিতরণ অঞ্চল বিউবো সিলেটের আব্দুল কাদিরকে বিতরণ শাখা থেকে সিলেটের কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিউবোতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে বদলি করা হয়েছে। গত ২ মার্চ কর্মচারী পরিষদ বিউবো ঢাকা উপ-পরিচালক-১ শাখার মোজাম্মেল বদলি আদেশ করেন। এ আদেশকে ঘিরে ছাতক ও সিলেটের ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সাধারণ নাগরিক মানুষের প্রত্যাশা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারায় থাকা দেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিতরণ অঞ্চল বিউবো সিলেটের আব্দুল কাদিরকে একাধিক বার মোবাইল কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews