২০২৬ বিশ্বকাপে যেখানে অন্যান্য মহাতারকারা গোল উৎসবে মেতেছেন, সেখানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শুরুটা হলো চরম হতাশাজনক। কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়েছেন, আর্লিং হালান্ড নরওয়ের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করেছেন, আর লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে ছুঁয়ে ফেলেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। ঠিক পরের দিনই ইতিহাস গড়ার মঞ্চ প্রস্তুত ছিল ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তবে কঙ্গোর বিরুদ্ধে পর্তুগালের ১-১ ড্রয়ের রাতে সেই কীর্তি আর ছোঁয়া হলো না তাঁর। উল্টো পুরো ম্যাচজুড়ে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের চমৎকার হেডে এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ইয়োয়ান উইসা কঙ্গোকে সমতায় ফেরান। পুরো ম্যাচে ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখেও পর্তুগিজরা প্রতিপক্ষের গোলমুখে মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল, যা মূলত তাদের আক্রমণভাগের ব্যর্থতাকেই ফুটিয়ে তোলে। দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদো গোল করার দুটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু দুবারই তিনি বল জালের ঠিকানা দিতে ব্যর্থ হন। এই ম্যাচের পর বড় টুর্নামেন্টগুলোতে টানা ১০ ম্যাচ গোলহীন রইলেন আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেছেন তিনি, যা পুরো ৯০ মিনিট খেলা পর্তুগালের যেকোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।
রোনালদোর এমন নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পরও তাঁকে মাঠ থেকে তুলে না নেওয়ায় পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেসের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন ধারাভাষ্যের সময় বলেন, মার্তিনেস আসলে রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সাহস পাননি। ম্যাচটি পুরোপুরি রোনালদোর নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার পরও তাঁকে খেলিয়ে যাওয়া কোচের একটি চরম লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত ছিল। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েইন রুনি অবশ্য ম্যাচের আগে রসিকতা করে বলেছিলেন, বাকি তারকাদের পারফরম্যান্স দেখে রোনালদো জ্বলে ওঠার জন্য মুখিয়ে থাকবেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে রুনিও স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, রোনালদোর এখন গোল করতে হলে সতীর্থদের থেকে আরও নিখুঁত সুযোগের প্রয়োজন।
সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি এবং গেল ক্লিশিও রোনালদোর অতিমাত্রায় গোলমুখী মানসিকতার সমালোচনা করেছেন। অঁরির মতে, একটি আক্রমণ চলাকালীন রোনালদো নিজে গোল করার তাড়নায় এমন জায়গায় চলে যান, যার ফলে ব্রুনো ফার্নান্দেসের ফাঁকায় বল পাওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়। অন্যদিকে ক্লিশি দাবি করেন, মাঠের ভেতর রোনালদোর মতো অতিমানবীয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করে। তাঁর উপস্থিতির কারণে সতীর্থরা অনেক সময় স্বাভাবিক শট না নিয়ে জোর করে রোনালদোকে পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সূত্র: বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ