মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়।
এর আগে, পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেয়ার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।
বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরো কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার ‘সুশীলন এনজিও’-এর সাথে অবৈধ লেনদেনের কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র এ ঘটনায় নীবর ছিলেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।