মো: রাশেদুল হাসান আমিন

কিন্তু, শুধু এই ফ্রেমে ঘটনাটা দেখলে যে জিনিসটা চোখ এড়িয়ে যায়, সেটাই বরং বেশি গুরুত্বপূর্ণÑ একজন মুসলিম প্রার্থী কীভাবে নিজের পরিচয় লুকিয়ে না রেখেও মিশিগানের মতো একটা কঠিন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যে অর্থ, প্রতিষ্ঠান আর দলীয় অভিজাতদের সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে জিতে গেলেন।

শুরুতেই একটা কথা পরিষ্কার করে নেয়া ভালো। আল-সায়েদ এখনো সিনেটর হননি। ৪ আগস্ট তিনি মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেনÑ এটুকুই। নভেম্বরে তাঁকে লড়তে হবে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে, আর সে লড়াইয়ে জিতলে তবেই তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। প্রাইমারি জয় আর সিনেট নির্বাচনকে এক করে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।

তবু একটামাত্র প্রাইমারি ফল নিয়ে এত হইচই কেন, সেটা বোঝা কঠিন নয়। মিশিগান কোনো নিরাপদ ডেমোক্রেটিক রাজ্য নয়Ñ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ রাজ্যই গিয়েছিল ট্রাম্পের পক্ষে। এমন একটা দোদুল্যমান রাজ্যে একজন প্রকাশ্য ইসরাইলনীতি-সমালোচক, মুসলিম, প্রগতিশীল প্রার্থী জিতে গেলেনÑ এটা তাই শুধু স্থানীয় খবর থাকছে না। বরং ডেমোক্রেটিক পার্টি সামনে কোন পথে হাঁটবে, সে দীর্ঘদিনের বিতর্কের একটা বাস্তব পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ফল।

আল-সায়েদের জয়কে অনেকে সহজভাবে ‘বামপন্থার উত্থান’ বলে দাগিয়ে দিতে চাইছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিগুলো নিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটা বিশ্লেষণ বলছে, ব্যাপারটা অতটা সরল নয়। ভোটারদের একটা বড় অংশ আসলে মতাদর্শের হিসেব কষে ভোট দেননি; তাঁরা পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি বিরক্ত হয়েই পরিবর্তন চেয়েছেন। জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসক আল-সায়েদ তাঁর প্রচারে বারবার ফিরে গেছেন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, শ্রমিকের অধিকার আর রাজনীতিতে অর্থের দাপট কমানোর প্রশ্নে। বার্নি স্যান্ডার্স আর আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আর মাঠে নেমেছিলেন দশ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক। অথচ জনমত জরিপে তাঁকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে দেখানো হচ্ছিলÑ শেষমেশ জয়টা এসেছে এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে। এটা মনে করিয়ে দেয়, জরিপ কখনোই নির্বাচনের চূড়ান্ত ছবি নয়, বড়জোর একটা মুহূর্তের আন্দাজ।

আল-সায়েদ মুসলিম, মিসরীয় বংশোদ্ভূত, আর মিশিগানের আরব-আমেরিকান সমাজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক দিনের। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসে আজও কোনো মুসলিম সদস্য বসেননিÑ এমন বাস্তবতায় তাঁর সম্ভাব্য জয় সত্যিকার অর্থেই একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে। কিন্তু প্রাইমারি জয়কে শুধু মুসলিম বা আরব ভোটের ফল বলে দেওয়াটা বড্ড সরলীকরণ হবে। তাঁর ভোটার জোট গড়ে উঠেছিল মসজিদ, শ্রমিক সংগঠন, তরুণ আর প্রগতিশীল কর্মীদের মিশেলেÑ কোনো একটামাত্র ধর্মীয় বা জাতিগত গণ্ডিতে আটকে থেকে নয়। তবে এটাও ঠিক, তাঁর পরিচয়কেই তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা কম হয়নি। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিজ ইনিশিয়েটিভ প্রাইমারির আগেই তাঁর বিরুদ্ধে চালানো মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারের বেশ কিছু নজির নথিভুক্ত করেছিল। তাই আল-সায়েদের গল্পটাকে মুসলিম পরিচয়ের রাজনৈতিক বাধা একেবারে মুছে যাওয়ার প্রমাণ ভাবলে ভুল হবে। বরং এটা দেখাচ্ছে, একই পরিচয় একই সঙ্গে সংঘাতের কারণ আর জোট গড়ার হাতিয়ারÑ দুটোই হতে পারে।

আল-সায়েদের প্রচারের সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে বিতর্কিত জায়গাটা গাজা। ইসরাইলের সামরিক অভিযানের তিনি দীর্ঘদিনের কড়া সমালোচক, এমনকি সেটাকে গণহত্যা বলেও অভিহিত করেছেন। মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সরাসরি। কিন্তু তাঁর যুক্তিটা শুধু পররাষ্ট্রনীতির খোপে বন্দি থাকেনি। রমযানে মিশিগানের এক মসজিদে দাঁড়িয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেনÑ গাজায় যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে দেশের ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা আর শিক্ষায় কতটা বিনিয়োগ করা যেত। অর্থাৎ গাজা তাঁর কাছে করদাতার টাকা কোথায় যাচ্ছে, সে ঘরোয়া প্রশ্নেরই একটা অংশ হয়ে উঠেছে। মিশিগানে এ অবস্থানের একটা বাস্তব ভিত্তিও আছেÑ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠী থাকে এ রাজ্যে। কিন্তু এই অবস্থানকে গোটা আমেরিকার সাধারণ মনোভাব বলে ধরে নিলে ভুল হবে। ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেই ইসরাইলনীতি নিয়ে গভীর ফাটল স্পষ্ট, আর এ প্রাইমারি সে ফাটলটাকেই বড় করে সামনে এনেছে।

স্টিভেন্সের পক্ষে ইসরাইলপন্থী লবিং সংগঠন এআইপ্যাক আর তার সহযোগীরা ব্যয় করেছিল প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারÑ সংগঠনটির ইতিহাসে যেকোনো একক নির্বাচনে করা সবচেয়ে বড় বিনিয়োগগুলোর একটা। রিপাবলিকান-ঘনিষ্ঠ সেনেট লিডারশিপ ফান্ডও আল-সায়েদের বিরুদ্ধে ঢেলেছে মোটা অঙ্কের টাকা, যার ফলে এ প্রাইমারি হয়ে উঠেছে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল সিনেট প্রাইমারি। উল্টো দিকে আল-সায়েদের প্রচার দাঁড়িয়ে ছিল মূলত তৃণমূল সংগঠন আর স্বেচ্ছাসেবকদের কাঁধে।

ফলটা তাই কৌতূহলোদ্দীপকÑ এত টাকা ঢালার পরও স্টিভেন্স হেরে গেলেন। তার মানে এই নয় যে রাজনৈতিক অর্থের প্রভাব ফুরিয়ে গেছে; ব্যবধান এত কম ছিল যে উল্টো দাবিটাও চলে না। তবে এটুকু বলাই যায়, আজকের আমেরিকায় প্রচারের টাকা আর ভোটের ফলের সম্পর্কটা আর আগের মতো সরলরৈখিক নেই। আল-সায়েদ নিজেকে করপোরেট আর লবিং অর্থের প্রভাবমুক্ত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে এ আখ্যানটাকেই কাজে লাগিয়েছেন।

এখানে একটা ভারসাম্যপূর্ণ কথাও বলা দরকার। এআইপ্যাক নিজে কোনো একলা ‘ভিলেন’ নয়; এটা একটা বৈধ স্বার্থগোষ্ঠী, যেভাবে মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে অসংখ্য লবিং সংগঠন কাজ করে। তারা যাদের ইসরাইলের প্রতি সহায়ক মনে করে, তাদের পক্ষে অর্থ ঢালেÑ এটাই তাদের কাজের ধরন। সমস্যাটা তাই এআইপ্যাকের অস্তিত্বে নয়; বরং প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক অর্থের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়েÑ একটা নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অবস্থানের ভিত্তিতে কোনো সংগঠন একটা অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রাইমারিতে এত বিপুল টাকা ঢালতে পারার ক্ষমতা কতটা স্বাস্থ্যকরÑ এই প্রশ্নেই ভোটারদের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে।

আল-সায়েদের জয় দলের প্রগতিশীল শিবিরের জন্য একটা বড় পাওয়া, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন মধ্যপন্থী আর প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সঙ্গে প্রগতিশীলদের দূরত্ব দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। মিশিগানের জনপ্রিয় গভর্নর পর্যন্ত শেষ মুহূর্তে স্টিভেন্সের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তবু ফল ঘোরানো গেল না। এতে দলের ভেতরে একটা প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছেÑ সাধারণ নির্বাচনে জেতার জন্য কোনটা কাজে দেয় বেশি, মধ্যপন্থী নিরাপদ পথ, নাকি প্রগতিশীল জনতুষ্টিবাদী আবেদন? মধ্যপন্থীদের ভয়, আল-সায়েদের গাজা-অবস্থান আর ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’ পরিচয় সুইং স্টেটের সাধারণ নির্বাচনী ভোটারদের কাছে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রগতিশীলরা আবার একে উল্টো প্রমাণ হিসেবে দেখছেনÑ জনস্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় আর রাজনীতিতে টাকার বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েই দল ভোটারের আস্থা নতুন করে ফিরে পেতে পারে। এ তর্ক নতুন কিছু নাÑ গত কয়েক বছরে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে একাধিক প্রাইমারিতে একই টানাপোড়েন দেখা গেছে। তবে মিশিগানের ফল এই প্রশ্নটাকে আরও তীব্র করে তুলেছে, কারণ এটা এমন একটা রাজ্যের সিনেট আসন, যার গুরুত্ব জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি।

প্রাইমারির ফল ঘোষণার পরপরই রিপাবলিকান-ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলো আল-সায়েদকে লক্ষ্য করে নতুন করে বিজ্ঞাপনী প্রচারের ঘোষণা দিয়েছে। উদ্দেশ্যটা স্পষ্টÑ নভেম্বরের আগেই ভোটারদের মনে তাঁকে একজন ‘অতিমাত্রায় প্রগতিশীল’ প্রার্থী হিসেবে গেঁথে দেওয়া। এখন পর্যন্ত রিপাবলিকান দলের আনুষ্ঠানিক প্রচার মূলত তাঁর নীতিগত অবস্থান আর অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরেই চলছে। তবে রক্ষণশীল মহলের কিছু মতামত লেখক তাঁর মুসলিম পরিচয়, গাজা-অবস্থান আর ইসরাইল প্রসঙ্গকে একসঙ্গে জুড়ে সমালোচনা করছেনÑ এটা দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়, নিছক ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই দেখা দরকার। এই দুটো জিনিস গুলিয়ে ফেললে গোটা চিত্রটাই বিকৃত হয়ে যায়।

প্রাইমারির ভোটাররা সাধারণ নির্বাচনের ভোটারদের চেয়ে মতাদর্শগতভাবে বেশি সক্রিয়, দলের প্রতি বেশি অনুগত। নভেম্বরে আল-সায়েদকে পৌঁছাতে হবে আরও বিস্তৃত, আরও বৈচিত্র্যময় এক ভোটারগোষ্ঠীর কাছেÑ যেখানে তাঁর মুসলিম পরিচয় বা গাজা-অবস্থান নিয়ে সরাসরি আক্রমণ না হলেও, একটা চাপা মেরুকরণ তৈরি হতে পারে অনায়াসে। তবে সুযোগও কম নেই তাঁর সামনে। গাজা প্রশ্নটাকে যদি তিনি শুধু পরিচয়গত বিষয় না বানিয়ে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন আর মার্কিন করদাতার অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন হিসেবে বৃহত্তর ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে পারেন, তাহলে তাঁর জোট আরও বড় হতে পারে। জিতলে সিনেটে গাজা, সামরিক সহায়তা আর রাজনৈতিক অর্থ নিয়ে একটা নতুন, স্পষ্ট কণ্ঠ যুক্ত হবে। আর হারলেও তাঁর প্রচারের প্রভাব মুছে যাবে না একেবারেÑ কারণ তিনি ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছেন, বিপুল প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ আর দলীয় সমর্থনের বিরুদ্ধেও তৃণমূল সংগঠন দিয়ে লড়াই করা যায়। তাঁর এই উত্থান ভবিষ্যতে অন্য মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থীদের জন্য একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে বটে, তবে এখনই একে নিশ্চিত প্রবণতা বলে ঘোষণা দেয়ার সময় আসেনি।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর কাছে আল-সায়েদের নাম স্বাভাবিকভাবেই আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে। কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষাটা লুকিয়ে আছে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলার পদ্ধতিতে। নিজের মুসলিম আর আরব পরিচয় তিনি লুকাননি, আবার সে পরিচয়টাকেই একমাত্র পুঁজি বানিয়েও রাখেননি। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, শ্রমিকের স্বার্থ, রাজনৈতিক অর্থের স্বচ্ছতাÑ এ প্রশ্নগুলোকে তিনি নিজের পরিচয়ের সঙ্গে একই সুতোয় গেঁথেছেন। ফলে তাঁর ভোটার জোট কোনো একটামাত্র ধর্মীয় বা জাতিগত গণ্ডিতে আটকে থাকেনি।

এখানেই একটা বড় প্রশ্ন উঠে আসে, যা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়Ñ মুসলিম বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে ভাবতে গেলেও প্রাসঙ্গিক। পরিচয় কখন রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়, আর কখন সেটা নিছক প্রতীকী উদযাপনেই আটকে থাকে? আল-সায়েদের অভিজ্ঞতা বলছে, পরিচয় দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে তখনই, যখন সেটা বৃহত্তর জনস্বার্থের কর্মসূচির সঙ্গে জুড়ে যায়। শুধু পরিচয় দিয়ে ভোটারকে একসঙ্গে আনা যায় বটে, কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে দরকার হয় নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা।

গাজা প্রশ্নটাও বাংলাদেশের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মানুষের মনে বিশেষভাবে ধাক্কা দেবে, কারণ এ যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশে জনমত এমনিতেই স্পষ্ট। তবে এখানেও একটু সতর্ক থাকা দরকারÑ আল-সায়েদের অবস্থানকে গোটা আমেরিকার অবস্থান বলে ধরে নেওয়া চলবে না, আবার তাঁর ইসরাইল-সমালোচনাকে ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান বলে দেখাও ভুল হবে। মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইলনীতি নিয়ে বিতর্ক দিন দিন জটিল হচ্ছে, আর এই জটিলতাকে সরলীকৃত করে দেখলে আসল ছবিটাই ঝাপসা হয়ে যায়।

আল-সায়েদের প্রাইমারি জয় তাঁকে ইতিহাসের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে মাত্র; দরজাটা তাঁর জন্য খুলবে কি না, ঠিক করবে নভেম্বর। জিতলে তিনি হবেন প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটরÑ এ স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছেÑ তিনি কি শেষ পর্যন্ত মুসলিম আমেরিকার একজন প্রতীকী মুখ হয়েই থেকে যাবেন, নাকি এমন একটা রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করতে পারবেন, যেখানে পরিচয়, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি আর প্রতিষ্ঠাবিরোধী মনোভাব মিলেমিশে একটা নতুন, টেকসই ভোটার জোট গড়ে তোলে? মিশিগানের প্রাইমারি একটা সম্ভাবনার আভাস দিয়েছে মাত্র; আসল উত্তরটা মিলবে নভেম্বরেই। লেখক: তরুণ সাংবাদিক।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews