ফলোঅনে পড়ে শেষ দিনে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল চার উইকেট; সোনাল দিনুশার অপরাজিত ১৩৩ রানের অতিমানবীয় প্রতিরোধে জয় অধরাই রইল রোহিতদের।
জয় থেকে মাত্র চার উইকেট দূরে ছিল ভারত। কিন্তু সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন সোনাল দিনুশা। প্রায় সাত ঘণ্টা উইকেটে থেকে অপরাজিত ১৩৩ রান করে ভারতীয় বোলারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিলেন শ্রীলঙ্কার এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর অসাধারণ প্রতিরোধে ফলোঅনে পড়েও কলম্বোর দ্বিতীয় টেস্ট বাঁচিয়ে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। ফলে টেস্ট ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নয়বার ফলোঅন করিয়েও এই প্রথম জিততে পারল না ভারত।
শেষ দিনে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র চার উইকেট। দিনের শুরুতে দিনুশা ও কেশারা নুয়ান্থা নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সামলে দেন। প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে শ্রীলঙ্কা ভারতীয় বোলারদের হতাশ করে। মধ্যাহ্নবিরতির পর মানভ সুতারের ঘূর্ণিতে নুয়ান্থা দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়লে ভাঙে ৮৮ রানের সপ্তম উইকেটের জুটি। এরপর প্রভাত জয়াসুরিয়াও ২৮ বল প্রতিরোধ করে রবীন্দ্র জাদেজার বলে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়েন।
তখনও ভারতের সামনে জয়ের সুযোগ ছিল। শ্রীলঙ্কার লিড দেড়শ ছাড়িয়ে গেলেও হাতে ছিল মাত্র দুই উইকেট। কিন্তু দিনুশার সঙ্গে লাহিরু কুমারা যোগ দেওয়ার পর ভারতীয়দের সেই আশাও শেষ হয়ে যায়। দুজন মিলে ১৬৯ বল খেলে ৪৭ রান যোগ করেন। দিনুশা তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, আর কুমারা ঘূর্ণি সামলাতে সুইপ শটকে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। সেঞ্চুরির পর কুমারা একটি সুযোগ দিলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ভারত।
শেষ পর্যন্ত কুমারা ১২ রানে ইয়াশস্বী জয়সওয়ালের হাতে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও দিনুশা আর কোনো বিপদ হতে দেননি। দিনের শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে ১৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই ফলোঅনে পড়া শ্রীলঙ্কা ৪২৯/৯-এ দিন শেষ করে ম্যাচ ড্র নিশ্চিত করে। ভারতের পক্ষে রবীন্দ্র জাদেজা ও মানভ সুতার তিনটি করে উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ভারতের ৫০৩/৯ ঘোষণার জবাবে শ্রীলঙ্কা অলআউট হয়েছিল ২৯০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে দিনুশার বীরত্বে শেষ পর্যন্ত হার এড়াল স্বাগতিকরা।