ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থান ও গণবিপ্লবের মাধ্যমে পতন হওয়া খুনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শোক সইতে না পেরে ফের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঘন্যতম নোংরামিতে মেতে উঠেছেন আওয়ামী দোসর ও ফ্যাসিস্ট অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। নিষিদ্ধ পল্লীর কর্মীদের মতো ভাষা ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনকে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে কটাক্ষ করে দেশপ্রেমিক জনতার ক্ষোভ উস্কে দিয়েছেন তিনি।

তার এমন চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা বলছেন, রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাকে অপমান করার সাহস এই ফ্যাসিস্ট দোসররা কোথা থেকে পায়?

শাওনের এই ধৃষ্টতার প্রতিবাদে আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় আজ বিকেলে সচেতন নাগরিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শাওনের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করে জুতা-মিছিল বের করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী এই তথাকথিত সংস্কৃতিসেবীরা বছরের পর বছর ধরে খুনি হাসিনার গুণগান গেয়েছেন এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যার পরও তাদের বিবেক জাগ্রত হয়নি। আজ তার ছবিতে জুতা নিক্ষেপের মাধ্যমে দেশের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, গণঅভ্যুত্থানকে অসম্মান করার পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্পদের লোভে পিতার বয়সী প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে বিয়ে করা মেহের আফরোজ শাওন কেবল একজন বিতর্কিত অভিনেত্রীই নন, বরং তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অন্যতম অন্ধ স্তাবক ও সুবিধাভোগী হিসেবে কাজ করেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুদান, পুরস্কার এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা একচেটিয়াভাবে ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে শাওনের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের প্রচার সেলের সাথে যুক্ত থেকে তিনি ফ্যাসিবাদের পক্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক সাফাই গেয়েছেন।

জুলাই-আগস্টে যখন শত শত ছাত্র ও শিশুকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছিল, তখনো শাওন খুনি হাসিনার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরোক্ষ সাফাই গেয়ে গেছেন এবং এই গণহত্যার বিরুদ্ধে শক্ত কোনো অবস্থান নেননি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছদ্মনামে বা পরোক্ষ ইঙ্গিতে তিনি জুলাই বিপ্লবকে অত্যন্ত নিচু ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগ করে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন, যা কোটি কোটি মানুষের আবেগে আঘাত হেনেছে।

অভিযোগ উঠেছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই শাওন পর্দার আড়াল থেকে এবং সুযোগ বুঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার ও গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নানামুখী প্রোপাগান্ডা ও উস্কানি ছড়াচ্ছেন।

প্রতিবাদ জানিয়ে নেটিজেনরা লিখেছেন, "যাঁরা হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামকে যৌনকর্মীর মত ভাষা ব্যবহার করে কটাক্ষ করতে পারেন, তাঁরা আর যাই হোক কোনো সুস্থ মানসিকতার মানুষ হতে পারেন না। এরা ফ্যাসিবাদের উচ্ছিষ্টভোগী কুকুরের মতো আচরণ করছে।"

ছাত্র-জনতা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে মেহের আফরোজ শাওনকে তার এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের এই দোসরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গণরোষ ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হবে। একই সাথে, শহীদদের রক্তকে অপমান করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews