আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলামকে সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন। 

রাজধানীর বাংলামোটরে অস্থায়ী কার্যালয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা তারিকুল ইসলাম ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে ৪৮ দিন কারাবরণ করেন। 

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনসহ পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার এবং এনআরসি-সিএএ বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ভূমিকা পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি আবরার ফাহাদের স্মরণ সভা থেকে গ্রেফতার হয়ে ২য় বার কারাবরণ করেন। 

তিনি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। ওই আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি “স্লোগান মাস্টার” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নিউক্লিয়াসের সদস্য ছিলেন। 

বর্তমানে তারিকুল ইসলাম জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখ্য সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক তারিকুল ইসলাম। 

লংমার্চ টু ঢাকার ঘোষক

৫ আগস্টের লং মার্চের ঘোষণা দেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। 

জুলাই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটা ছিল ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট।

আমাদের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিনই আমাদের ভাই এবং বোনরা সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে । ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলন সরকার পতন আন্দোলনের তীব্রতা ওই দিনই হয়েছিল। ওই দিন সেই উত্তাল শাহবাগ প্রাঙ্গণে যখন আমরা দাঁড়িয়েছিলাম, সেখান থেকে আমরা বারবারই আমরা মনে করছিলাম যে আমাদের সাইন্স ল্যাবে আমাদের ভাইদেরকে গুলি করা হচ্ছিল। এদিকে ফার্মগেট-বাংলামোটর-কাঁটাবন এলাকায় আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে অবস্থান করছিল। ওই এলাকাজুড়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের আন্দোলনকারী ভাইদের ওপর গুলি চালিয়েছে, পুলিশ গুলি চালিয়েছে, র‌্যাব গুলি চালিয়েছে, বিভিন্ন বাহিনী সদস্যরা তারা গুলি চালিয়েছে। তখন আসলে চতুর্দিক থেকে আমাদের শাহবাগ চত্তরে লাশ আসছিল।  যখন আমি প্রোগ্রামটা উপস্থাপনা করছিলাম আমাদের গোটা প্রোগ্রামটার যখন হোস্টিং করছিলাম তখন আমি দেখছিলাম যে আমার পাশে অনেকগুলো লাশ।  

তারিকুল ইসলাম বলেন, তখন নাহিদ ইসলাম শাহবাগ চত্বরের পুলিশ বক্সে বসেছিলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি উপস্থিত সমন্বয়কদের সঙ্গে  আলাপ আলোচনা করে ৬ তারিখের লংমার্চ ৫ তারিখে করার জন্য সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন।  আমাকে যখন জানানো হয় শাহবাগ উত্তাল জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। আমি ওই জনসমুদ্রে ঘোষণা করি, আপনারা শান্ত হন। আমাদের লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ছয় তারিখে নয় পাঁচ তারিখে হবে। 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews