বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও আলো ছড়িয়েছেন লিওনেল মেসি। তারই স্বীকৃতি মিলেছে ব্যালন ডি’অরের এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। বর্ষসেরা ফুটবলারের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের ৩০ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার সঙ্গে প্রত্যাশিতভাবেই আছেন হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও লামিনে ইয়ামালের মতো তারকারাও।
ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ মঙ্গলবার ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। গত দুই আসরে তালিকায় জায়গা না পাওয়া মেসি এবার আবারও ফিরেছেন পুরস্কার জয়ের দৌড়ে। রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের এটি ১৭তম মনোনয়ন। তবে এবারও সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা হয়নি আরেক মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। টানা তৃতীয়বারের মতো তালিকার বাইরে থাকলেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোর নাম এই পুরস্কারের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ বার মনোনীত হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তার আগে জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ও কীর্তি গড়েন তিনি। আসরে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তোলেন। তবে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
ক্লাব ফুটবলেও দুর্দান্ত ছিলেন মেসি। ইন্টার মিয়ামির হয়ে জিতেছেন এমএলএস শিরোপা। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৪৯ ম্যাচে ৪৫ গোলের পাশাপাশি ৩০টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ফলে রেকর্ড নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের হাতছানি এখন তার সামনে। তবে এবারের পুরস্কারের অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে আলোচনায় আছেন হ্যারি কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল ও আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন ইংলিশ তারকা। বায়ার্ন মিউনিখের বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কেইন ক্লাবের হয়ে করেছেন ৬১ গোল, আর ইংল্যান্ডের হয়ে ১২টি।
এমবাপ্পের পরিসংখ্যানও বেশ উজ্জ্বল। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি মোট ২২ গোল নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন তিনি। যদিও ফ্রান্সকে চতুর্থ স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৬০ ম্যাচে ৫৮ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট করেছেন এমবাপ্পে। তবে কোনো দলীয় শিরোপা জিততে পারেননি ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লামিন ইয়ামালের। স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানেও তরুণ এই তারকা ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে ৫৭ ম্যাচে ২৫ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। গতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলেও আছেন এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। তবে এবার তার পুরস্কার ধরে রাখার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্ষসেরা ফুটবলারের পাশাপাশি সেরা গোলরক্ষকের ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখানো কেপ ভার্দের ভোজিনহা। ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের স্মরণীয় পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ একজন ছিলেন ভোজিনহা। অভিষেক ম্যাচেই তার নৈপূণ্যে জায়ান্ট স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দেয় কেপ ভার্দে। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ ড্র এবং সউদী আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে, গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও চোখে চোখ রেখে লড়াই করে তারা। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে। চার ম্যাচে মোট ১৮টি সেভ করেন ভোজিনহা, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আটটি এবং স্পেনের বিপক্ষে সাতটি। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৩০ ম্যাচের ১৩টিতে জাল অক্ষত রাখেন ভোজিনহা। চ্যাম্পিয়ন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনও আছেন সংক্ষিপ্ত তালিকায়। বিশ্বকাপের পুরো আসরে সিমন গোল হজম করেন মাত্র একটি। আথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে খেলা এই গোলরক্ষক গত মৌসুমে সব মিলিয়ে ৬২ ম্যাচ খেলে জাল অক্ষত রাখেন ২২টিতে। সেরার লড়াইয়ে আছেন স্পেনের আরও দুজন গোলরক্ষক- বার্সেলোনার জোয়ান গার্সিয়া ও আর্সেনালের ডেভিড রায়া। তারা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাননি। তবে গত মৌসুমে বার্সেলোনার লা লিগা, কোপা দেল রে জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন গার্সিয়া। আর আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রায়া। বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও জায়গা পেয়েছেন সেরার লড়াইয়ে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হবে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম।