যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে আজই তারা যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে পারেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
জানা গেছে, পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে যুক্তরাজ্যে আসছে। তবে হ্যারি-মেগানের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে গত সপ্তাহে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, আগস্টেই যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য ফিরতে পারেন এই দম্পতি। তবে দেশে ফিরলেও তারা রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে যুক্ত হবেন না। অর্থাৎ কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, বরং নন-ওয়ার্কিং রয়্যাল হিসেবে ব্রিটেনে থাকবেন তারা।
ধারণা করা হচ্ছে, লন্ডনের বাইরে কটসওল্ডস এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে পরিবারটি বসবাস করবে। আর্চি ও লিলিবেটকে ইতোমধ্যে একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা।

২০২০ সালের শুরুতে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্য ছাড়েন হ্যারি ও মেগান। একই বছরের মার্চে তারা ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
চলতি বছরের জুলাইয়ে পরিবারের সদস্যরা রাজা তৃতীয় চার্লসের হাইগ্রোভের বাড়িতে দেখা করেছিলেন। তবে সে সময় যুক্তরাজ্যে ফিরে বসবাসের পরিকল্পনা নিয়ে রাজার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে। হ্যারি-মেগানের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথরিনকেও জানানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে ফিরে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হ্যারি এর আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। গত বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় তার ও পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাত্রা নিয়ে করা আইনি চ্যালেঞ্জেও তিনি হেরে যান।
তবে দেশে ফিরলে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং এর ব্যয় কে বহন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানিয়েছে, রাজপরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষ কমিটি নেয় এবং সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়।
হ্যারি-মেগানের এই প্রত্যাবর্তন ২০২২ সালের পর বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই বছর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নিতে দুজন একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন।
এদিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত একটি মামলায়ও সম্প্রতি হ্যারি ও আরও ছয়জনের করা আইনি চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হয়েছে। এ মামলায় অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্সকে আইনি খরচ হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা।