নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মসূচি থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে সরানোর কোনো উদ্যোগ মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলারও ঘোষণা দেয়া হয়।
নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে রোববার (১৯ জুলাই) দৈনিক নয়া দিগন্তে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিন সোমবার শত শত মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচি শেষে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি স্মারকলিপি নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) আফাজ উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে রয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসাথে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা, প্রশাসন ও আঞ্চলিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রাজশাহীর একটি স্বীকৃত অবস্থান রয়েছে। তাই জনস্বার্থ, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও উত্তরাঞ্চলের সুষম উন্নয়নের স্বার্থে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল রাখা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব বাতিল করে তা রাজশাহীতেই বহাল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। একইসাথে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জনস্বার্থ ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় অন্যত্র সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত রাজশাহীবাসী মেনে নেবে না। তাদের অভিযোগ, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসাথে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে।
বক্তারা আরো বলেন, অতীতেও বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহী থেকে পিডিবির কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজশাহীবাসীর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবারো জনমতের মুখে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ সফল হবে না বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে গত ১৬ জুলাই সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ মেজবাহ উল সাবেরিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণের জন্য বিস্তারিত মতামত দিতে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসাথে চিঠির অনুলিপি মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজশাহীতে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন— এটি কি কেবল সম্ভাব্যতা যাচাই, নাকি স্থানান্তর প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ?