পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নির্ভরশীল গঠনমূলক সহযোগিতা করতে আগ্রহী ঢাকা। বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক, নিরপেক্ষ এবং স্থিতিশীল পরিবেশের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম গন্তব্য হতে চায় বাংলাদেশ।’ গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বিনিয়োগ সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে ‘বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির পথনকশা’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রমুখ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারি গড়ে তুলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল করা হবে। দেশিবিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে টেকসই, স্বচ্ছ এবং পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জ্বালানি সমিতির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানিসংকটের মাত্রা আগের তিনটি বড় তেলসংকটের চেয়েও বিস্তৃত হতে পারে। এমন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়ন কেন্দ্র করে নতুন সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি। দেশিবিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে তুলে ধরতে হবে।’