গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর মৌজায় একটি খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৮০ সালে তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমা বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলায় রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন। এই খাল খনন করার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই খাল খনন কাজের উদ্বোধন করার কারণে খালটি জিয়া খাল নামে পরিচিতি পায়।
এলাকাবাসীর মতে, খাল কাটার পর আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন সহজ হয় এবং অনেক জমি বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে। এই খালটি শুধু পানি ব্যবস্থাপনার দিক থেকেই নয়, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে সচল করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে ধান ও সবজি চাষে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় বলে কৃষকদের অভিমত। বর্তমান সময়েও খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকে আছে। তবে দীর্ঘদিনের পলি জমা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোথাও কোথাও এর কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং কিছু স্থানে খাল ভরাট করে সরকারি-বেসরকারি ভবন গড়ে ওঠায় খালটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বলে স্থানীয়রা জানান। গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিনু বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গোপালগঞ্জ সফরে এসে সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর মৌজায় খাল খননের উদ্বোধন করেন। খালটি গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের পশ্চিম দিক থেকে শুরু করে ঘোষেরচর মৌজার মধ্য দিয়ে গিয়ে হরিদাসপুর এলাকায় মধুমতী বিলরুট চ্যানেলের সঙ্গে মিলিত হয়। খালটি প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল। খালটি এলাকার মানুষের কৃষি জমিতে সেচ, কৃষি পণ্য পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাত। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কিছু লোক ও প্রতিষ্ঠান খালটি দখল করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি খালটি যেন পুনরায় খনন করে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করেন।
গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি মাহামুদা জামান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি যে কোদাল দিয়ে এই খাল কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন আমার স্বামী তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমা যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান পিনু ওই কোদালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে চেয়ে এনেছিলেন। ১৯৮০ সাল থেকে ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত কোদালটি স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর ওই দিনই আমাদের বাড়িসহ বিএনপির বেশ কিছু নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষরা। সেদিন আমার বাড়ি থেকে রাষ্ট্রপতির স্মৃতি কোদালটি লুট হয়ে যায়।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান বলেন, জেলায় ২৩২ কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জিয়া খালের নামও রয়েছে। খালটি বর্তমানে দখল দূষণে মৃত প্রায়। ঢাকায় খাল খনন বিষয়ক যে কমিটি রয়েছে তাদের মাধ্যমে জিয়া খালসহ সব খাল পরিদর্শন করে দ্রুত জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে।