যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দেয়ার পরও তার দেশ কোনো হুমকির কাছে নত হবে না। নতুন করে হরমুজে অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামাবাদ থেকে তেহরানে ফিরে সাংবাদিকদের গালিবাফ বলেন, ‘তারা যদি যুদ্ধ করে, আমরাও যুদ্ধ করব। আর যদি তারা যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসে, আমরাও যুক্তি দিয়েই জবাব দেব। আমরা কোনো হুমকির কাছে নত হব না। তারা আবার আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করে দেখুক। আমরা তাদের আরও বড় শিক্ষা দেব।’ এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি সংলাপের প্রথম দফা রবিবার ভোরে কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। যদিও বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি, উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে আলোচনা প্রক্রিয়া চালু থাকতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে গালিবাফ আরও কড়া ভাষায় বলেন, এই দফার আলোচনায় প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
পাকিস্তান এই আলোচনা আয়োজন ও সহায়তা করেছে। তারা এতে সতর্ক আশাবাদ দেখিয়েছে। উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আমরা আশা করি, উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে একটি স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। ফলাফল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উভয় প্রতিনিধিদলই স্পষ্ট করেছে যে, মূল কোনো বিষয়ে সমঝোতা হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথও বন্ধ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তারা ইরানের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে গালিবাফ বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেন, এই আলোচনা প্রতীকী নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক। দুই পক্ষই কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর নিজেদের অবস্থান যাচাই করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত এখনো জটিল, বহুমাত্রিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। আলোচনা কয়েকটি ধাপে এগোয়। শুরুতে দুই পক্ষ আলাদাভাবে পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে। এর মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ইসহাক দার এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। এরপর পরোক্ষ আলোচনা থেকে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে পৌঁছায়। পরবর্তী ধাপে জেডি ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার এবং ইরানের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বৈঠক হয়। সেখান থেকে অর্থনৈতিক, আইনি ও রাজনৈতিক দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপে আলোচনা এগোয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি- সব বিষয়ই উঠে এসেছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews