একটু অসতর্কতাই কাল হলো সাইফ হাসানের জন্য। দৌড়ে দুই রান নেওয়ার সময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তের দিকে তাকিয়ে কিছুটা মন্থর গতিতে ক্রিজের দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি। ফিল্ডারের থ্রো কিপারের দিকে আসতে দেখে, তড়িঘড়ি করে লাইনে ঢোকার চেষ্টা করেও পারলেন না বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের ওপেনার, কাটা পড়লেন রানআউটে। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়তে হলো তাকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করতে না পারা সাইফ, ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেই পেলেন বড় রানের দেখা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উদ্বোধনী দিনে সোমবার গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৯৬ রান করেন তিনি। তিনটি করে ছক্কা-চারে সাজানো তার ১২৬ বলের ইনিংসটি। যদিও গতপরশু শুরু হওয়া ম্যাচটি ২৬ রান জিতে এবারের ডিপিএল শুরু করে বসুন্ধরা। ২৮০ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে ২৫৪ রানে আটকে দেয় তারা।
যদিও এদিন রান আউটে কাঁটা পড়া সাইফ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে একদমই সন্তুষ্ট ছিলেন না। আম্পায়ার আঙুল তুলে দেওয়ায় চোখেমুখে অবিশ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। ওই ওভারেই বিতর্কিতভাবে সাইফের সতীর্থ নুরুল হাসান সোহানকে আউট দেন আম্পায়ার। ছক্কার চেষ্টায় লেগ সাইডে উড়িয়ে মারেন সোহান। ডিপ স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে বল মুঠোয় জমিয়ে শরীরের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি ফিল্ডার। বল উপরের দিকে ছুঁড়ে সীমানার বাইরে চলে যান তিনি, দ্বিতীয় দফায় বল মুঠোয় জমিয়ে করেন উল্লাস। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় বল যখন মুঠোয় জমান ফিল্ডার, তার একটি পা তখনও সীমানার বাইরে মাটি স্পর্শ করেছিল। কয়েক দফায় রিপ্লেতে সেটা দেখানো হয়। যা নিয়ে আম্পায়ারদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় সোহানকে। শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন তিনি ৪১ বলে ৪৩ রান করে। ইমরানুজ্জামানের সঙ্গে ৫৬ রানের শুরুর জুটির পর, ফজলে মাহমুদের সঙ্গে ১৩৩ রানের যুগলবন্দি গড়েন সাইফ। চারটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৮২ রান করেন ফজলে মাহমুদ। এরপর সোহানের সঙ্গে সাইফের ৭১ রানের জুটিতে আড়াইশ ছাড়ায় দলের রান। রান তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় গুলশান। দলটির হয়ে চারটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন সাতে নামা জুবায়ের হোসেন। বসুন্ধরার হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন রুয়েল মিয়া ও নাহিদুল ইসলাম।
প্রথম দিনই মাঠে নেমেছিল অংশগ্রহণকারী ১২ দলই। ম্যাচ হয়েছে আরও পাঁচটি। প্রকৃতির বাগড়ায় ৩৪ ওভারে নেমে আসা লড়াইয়ে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ২২ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ২৮৩ রান করে প্রতিপক্ষকে ২৬১ রানে আটকে দিয়েছে তারা। রূপগঞ্জকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার কারিগরদের একজন আশিকুর রহমান শিবলি। এখানেও আছে আক্ষেপের গল্প। ¯্রফে এক রানের জন্য লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পাননি ২০ বছর বয়সী এই ওপেনার। তিনটি ছক্কা ও ১১টি চারে ৮৪ বলে ৯৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এছাড়া ইরফান শুক্কুর তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৬০ রান করেন। শেষ দিকে ঝড় তোলেন সামিউন বাশির ও শেখ মেহেদী হাসান। পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে ২ বলে ৪৬ রান আসে সামিউনের ব্যাট থেকে। চারটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ¯্রফে ১৬ বলে ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন মেহেদী। কালাম সিদ্দিকি ও মুক্তার আলির পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে ভালোই লড়াই করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। পাঁচটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৪৬ বলে সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন কালাম। তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ২৭ চারে অপরাজিত ৫২ রান করেন সাতে নামা মুক্তার।
দিনের আরেক ম্যাচে ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সিটি ক্লাবকে পাঁচ উইকেটে হারায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন অভিজ্ঞ এনামুল হক বিজয়। দুটি ছক্কা ও নয়টি চারে ৮০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। সিটি ক্লাবকে দুইশর আগে গুটিয়ে দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নাঈম আহমেদ। ৮ ওভারে ২০ রান দিয়ে চার শিকার ধরেন এই অফ স্পিনার। এদিকে দিনের সবচাইতে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে ঢাকা লেপার্ডস। নবাগত দলটির বিপক্ষে হেরে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। ৩০ ওভারের ম্যাচে শিরোপাধারীদের ১৮১ রানে থামিয়ে পাঁচ বল বাকি থাকতে পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নেয় নবাগত দল।
আবাহনীর কয়েকজন ব্যাটসম্যান ভালো শুরু পেলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দলটির হয়ে কেবল সাব্বির রহমানই ফিফটি করতে পারেন। পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে ২৯ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। রানের খাতাই খুলতে পারেননি সৌম্য সরকার। অভিজ্ঞ মোসাদ্দেক হোসেন (১৭), জাকের আলি (৪) পারেননি প্রত্যাশা পূরণ করতে। লেপার্ডসের জয়ের নায়ক জাকির হাসান তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৭৪ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন। দলটির অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন চারটি চারে ৩৭ রান করেন। অবধারিতভাবে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। প্রতিপক্ষকে ৮২ রানে গুটিয়ে ¯্রফে ১৪.৩ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে তারা। তিনটি করে উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন দুই অফ স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল ও লিয়ন ইসলাম।
এদিকে, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের চার উইকেটের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন আলিস আল ইসলাম। ছয় ওভারে স্রেফ ২২ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন এই স্পিনার। অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে কয়েকজন ভালো শুরু পেলেও দলকে টানতে পারেননি। দলটির হয়ে ত্রিশ ছুঁতে পেরেছেন কেবল একজন, অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ৩২। তাতে ১৫৩ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় রানের খাতা খুলতে পারেননি শাহাদাত হোসেন। টপ অর্ডারের অন্য দুই ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসানের ৪৪ ও আরিফুল ইসলামের ৩৪ রানে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে প্রাইম ব্যাংক। পরে দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারালেও শামীম হোসেনের ব্যাটে কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছে যায় তারা। তিনটি চারে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন শামীম। সময়ের দাবি মিটিয়ে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ২৩ রান করতে খেলেন ৪২ বল।