মহানগরী মানুষের বসবাসের এক শক্তিশালী মানসিক পরিবেশ। সে মানুষের চেতনার পুনর্গঠন করে, বিভক্ত করে এবং কখনো নিজস্ব মেজাজে ভেঙে ফেলে। মহানগরীতে মানুষ কেবল বসবাস করে তা নয়। মানুষ এখানে ক্রমাগত চেতনার রূপান্তর ঘটায়। এই রূপান্তরের কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্য হলো চেতনার বিভাজন।

প্রাক-মহানগরী সমাজে মানুষের পরিচয় তুলনামূলকভাবে সমন্বিত ছিল। পেশা, পরিবার, বিশ্বাস ও সামাজিক ভূমিকা পরস্পরের সাথে জৈবভাবে যুক্ত ছিল। কিন্তু মহানগরীতে মানুষ একসাথে বহু পরিচয়ে বাস করে। একজন মানুষ একই দিনে কর্মক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত ও অনুগত, বাজারে আক্রমণাত্মক ভোক্তা, সামাজিক মাধ্যমে আত্মপ্রচারক এবং ঘরে ফিরে নিঃশব্দ ও ক্লান্ত এক অস্তিত্ব।

এই বহুত্ব সাধারণ অর্থে কোনো সমৃদ্ধি নয়; বরং এটি একধরনের মানসিক খণ্ডিতকরণ। এখানে চেতনা আর একটি কেন্দ্র ঘিরে আবর্তিত হয় না। ছড়িয়ে পড়ে নানা মুখোশে।

মহানগরীতে সময় আর প্রাকৃতিক ছন্দে প্রবাহিত হয় না। সূর্যাস্ত বা ঋতু এখানে গৌণ; প্রধান হয়ে ওঠে ডেডলাইন, শিফট, নোটিফিকেশন ও ঘড়ির কাঁটা। সময়ের এই যান্ত্রিক বিভাজন মানুষের মনকেও টুকরো টুকরো করে।

এখানে মানুষ কখনোই সম্পূর্ণ উপস্থিত থাকে না। সে অফিসে থাকলেও তার মনের একাংশ ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায়, আরেকাংশ অতীতের ক্লান্তিতে বন্দী। ফলে মহানগরীর চেতনা এক স্থায়ী অপূর্ণতা ও তাড়াহুড়োর মানসিকতায় আবর্তিত থাকে।

মহানগরী মানুষের ইন্দ্রিয়কে অবিরাম আঘাত করে। সে আঘাত করে শব্দ, আলো, ভিড়, বিজ্ঞাপন, স্ক্রিন দিয়ে। এই অতিসংবেদনশীল পরিবেশে টিকে থাকতে মানুষ একধরনের আত্মরক্ষামূলক উদাসীনতা গড়ে তোলে। সে দেখে, কিন্তু অনুভব করে না; শোনে, কিন্তু ভাবে না।

এই উদাসীনতা মানুষকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সুরক্ষা দিলেও সামষ্টিকভাবে চেতনার বিভাজন বাড়ায়। মানুষ নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

মহানগরীর সম্পর্কগুলো অধিকাংশই কার্যভিত্তিক। মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষের সাথে যুক্ত হয় এবং প্রয়োজন শেষে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এই লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক চেতনাকে বিশ্বাসহীন করে তোলে। ফলে মানুষের মন দুই ভাগে বিভক্ত হয়। একটি প্রকাশ্য, কার্যকর সত্তা; আরেকটি গোপন, সন্দেহপ্রবণ সত্তা। এই দ্বৈততা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ক্লান্তি ও আত্মবিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে।

প্রযুক্তি মহানগরীর চেতনার বিভাজনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একজন মানুষ একই সময়ে একাধিক ডিজিটাল বাস্তবতায় উপস্থিত থাকে। সে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচেট, টুইটার (এক্স), টিকটক, ই-মেইল, ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেঞ্জার, ভার্চুয়াল পরিচয়। বাস্তব দেহ এক স্থানে থাকলেও চেতনা ছড়িয়ে থাকে বহু পর্দায়। এই বহুবিভাজিত উপস্থিতি মানুষের মনকে গভীরতা থেকে বঞ্চিত করে। চেতনা বিস্তৃত হয়, কিন্তু প্রগাঢ় হয় না।

মহানগরীতে মানুষ প্রতিদিন বৈষম্য, অবিচার ও মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়। কিন্তু প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো সময়, শক্তি বা সামর্থ্য তার থাকে না। ফলে চেতনার মধ্যে একধরনের নৈতিক দ্বিধা জন্ম নেয়। এই দ্বিধা দেখা ও না দেখার মধ্যে, জানা ও উপেক্ষার মধ্যে।

এই দ্বিধা মানুষকে ভেতরে ভেতরে দ্বিখণ্ডিত করে তোলে। এক অংশ গড্ডলিকার বিপরীতে প্রতিবাদ করতে চায়, অন্য অংশ নিরূপদ্রব বেঁচে থাকতে চায়।

মহানগরী মানুষের বসবাসের স্থান বটে। কিন্তু সে আরো বেশি কিছু। সে এক অবিরাম ইন্দ্রিয়গত আক্রমণ। এখানে শব্দ থামে না, গতি শ্লথ হয় না, আলো নিভে যায় না। মহানগরী তাই এক বিশেষ মানসিক আবহ সৃষ্টি করে। যেখানে মানুষের স্নায়ু ক্রমাগত উত্তেজিত থাকে। চেতনা ধীরে ধীরে অতিসংবেদনশীল, অথচ অসাড় হয়ে পড়ে।

মহানগরীর প্রথম পরিচয় শব্দ। হর্ন, ইঞ্জিন, নির্মাণকাজ, ভিড়ের গুঞ্জন, বিজ্ঞাপনের মাইক... শব্দ আর শব্দ। মহানগরী অনবরত তৈরি করে স্থায়ী শব্দমণ্ডল (soundscape)। এখানে নীরবতা কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নয়; বরং ব্যতিক্রম, কখনো সন্দেহজনক।

অবিরাম শব্দ মানুষের শ্রবণক্ষমতাকে ক্লান্ত করে। শারীরিকভাবে তো বটে, মানসিকভাবেও। মানুষ শোনে; কিন্তু গভীরভাবে শুনতে পারে না। ফলে কথোপকথন ক্রমেই সংক্ষিপ্ত, আবেগহীন ও কার্যভিত্তিক হয়ে ওঠে। মহানগরীর মন তাই উচ্চস্বরে কথা বলে; কিন্তু কম বোঝে।

মহানগরীতে গতি একটি নৈতিক আদর্শে পরিণত হয়েছে। দ্রুত চলা মানে দক্ষতা। গতিমন্থরতা মানে অযোগ্যতা। অবিরাম গতি মানুষের দেহকে যন্ত্রে রূপান্তরিত করে। মনকে বন্দী করে স্থায়ী উৎকণ্ঠার হাতে। এখানে বিশ্রাম অপরাধের মতো মনে হয়। মানুষ যদি থামে, সে পিছিয়ে পড়ে। ফলে মহানগরীর চেতনা একধরনের স্থায়ী তাড়াহুড়োর নেশায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

মহানগরীর শব্দের সাথে যুক্ত হয় দৃশ্যের আধিক্য। বিলবোর্ড, স্ক্রিন, ট্রাফিক লাইট, ভিড়। চোখের সামনে সব কিছু একসাথে ঘটে। এই দৃশ্যমান অতিরিক্ততা মানুষের মনের স্থিতি বিতাড়িত করে ।

দৃশ্যের পর দৃশ্য। অনুভূতির পর অনুভূতি। কিন্তু ক্ষণস্থায়ী। নিত্যনতুন অনুভূতিস্রোতে তলিয়ে যায় তারা।

অতিসংবেদনশীল মন সহানুভূতির উপযুক্ত নয়। মহানগরীতে মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের দুঃখ দেখে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো মানসিক শক্তি তার থাকে না। ফলে সহানুভূতি প্রাতিষ্ঠানিক হয়, ব্যক্তিগত থাকে না। তা প্রদর্শনমূলক হয়; কিন্তু দায়িত্ববান হয় না। এই সহানুভূতির ক্লান্তি মহানগরীর নৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে।

সমস্তটা মিলিয়ে মহানগরী মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ আবাস। অথচ সে একই সাথে সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানসিক ভূদৃশ্য। এখানে মানুষ কখনো একা থাকে না; কিন্তু খুব কমই কারো সাথে থাকে। এই বৈপরীত্যের ভেতর দিয়েই মহানগরীর মন গড়ে ওঠে। যেখানে ভিড়, ক্ষমতা ও বৈষম্য একে অন্যকে শক্তিশালী করে, আর মানুষের চেতনায় জন্ম দেয় গভীর নৈতিক দ্বিধা।

মহানগরীর ভিড় কোনো ঐক্য নয়। সামষ্টিকতা নয়, বন্ধন নয়। এটি অসংখ্য বিচ্ছিন্ন এককের সমাবেশ। মানুষ এখানে পাশাপাশি হাঁটে; কিন্তু একসাথে চলে না। প্রত্যেকেই নিজের। সবখানেই শরীরের ঘনত্ব বেশি; কিন্তু সম্পর্কের ঘনত্ব কম। এই সম্পর্কহীন সহাবস্থান মানুষকে একধরনের অদৃশ্যতা উপহার দেয়। কেউ কাউকে চেনে না, জানে না, দায়িত্বও নেয় না। ফলে ভিড়ের মধ্যেই জন্ম নেয় গভীর একাকিত্ব; যা গ্রামীণ নিঃসঙ্গতার চেয়ে আলাদা। কারণ এটি মানুষের মনে ও জীবনে স্থায়ী করে আত্মপূজা, আত্মপ্রতিষ্ঠা ও আত্মকেন্দ্রিকতার রাজত্বকে ।

মহানগরী মূলত ক্ষমতার ঘনীভবনের কেন্দ্র। রাষ্ট্র, পুঁজি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি এখানে একত্রিত। তারা মানুষের জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এই ক্ষমতা অধিকাংশ সময় দৃশ্যমান নয়। সে কাজ করে নীতি, নিয়ম, ক্যামেরা, অ্যালগরিদম ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে। মানুষ এখানে নিজেকে স্বাধীন মনে করে। কিন্তু সে আসলে নিরন্তর পর্যবেক্ষণের অধীন। এই নজরদারি মানুষের চেতনায় একধরনের সতর্ক ভীতি তৈরি করে; যা তাকে অনুগত, কিন্তু ক্লান্ত করে তোলে।

মহানগরীর সবচেয়ে নির্মম বৈশিষ্ট্য হলো বৈষম্যের প্রকাশ্য সহাবস্থান। একই রাস্তার এক পাশে বিলাসবহুল শপিংমল, অন্য পাশে বস্তি। একই সিগন্যালে এক গাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নীরবতা, আরেক পাশে ক্ষুধার্ত শিশু। এই বৈষম্য গ্রামে লুকানো থাকতে পারে। কিন্তু মহানগরীতে তা চোখের সামনে দাঁড়ানো। ফলে মানুষের মনে জন্ম নেয় এক স্থায়ী নৈতিক অস্বস্তি। সব কিছু দেখা যাচ্ছে; কিন্তু বদলানো যাচ্ছে না।

মহানগরীর মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য নৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়। সে স্থির করে কাকে সাহায্য করবে, কাকে উপেক্ষা করবে, কখন চোখ ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত অধিকাংশ সময় সচেতন নয়। এগুলো স্নায়বিক আত্মরক্ষার ফল।

এভাবে নৈতিকতা ধীরে ধীরে পরিস্থিতিনির্ভর হয়ে পড়ে। মানুষ খারাপ নয়; কিন্তু উপযোগবাদী। এই উপযোগবাদই মহানগরীর নৈতিক দ্বিধার কেন্দ্র।

মহানগরীতে সহানুভূতি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়। সহানুভূতি এখানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে আছে হাসপাতাল, এনজিও, দান সংস্থা। এতে এক দিকে সহায়তা কার্যকর হয়, অন্য দিকে মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিক দায়িত্ব দুর্বল হয়। সেবা এখানে পণ্য। হাসিটাও বিক্রি হচ্ছে। সান্নিধ্যও কিনতে হচ্ছে। যত্নটারও মূল্য দিতে হচ্ছে টাকার দরে।

মহানগরী ঘটায় স্মৃতির ক্ষয়। স্মৃতি সাধারণত স্থাননির্ভর। আমাদের স্মৃতি যুক্ত থাকে পুরনো ভিটে, উঠানে, বাবা-মা ও দাদা-দাদীর বাড়িতে। স্মৃতিরা থাকে খেলার মাঠে, গাছ, রাস্তা, মসজিদ, বাজারে। এসব স্থানের ভেতর দিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক স্মৃতি কথা বলে। কিন্তু মহানগরীতে অবকাঠামো ক্রমাগত বদলায়। পুরনোটা ভাঙে, নতুনরা হাজির হয়। শহরের শরীর বদলায়। কিন্তু মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা থাকে না।

ফলে মানুষের স্মৃতি স্থানচ্যুত হয়। সে থাকে একই শহরে। কিন্তু নিজের অতীতের জায়গাগুলো আর খুঁজে পায় না। এ অবস্থাই মহানগরীর মানসিক ইতিহাসহীনতার সূচনা।

মহানগরীতে বিস্মৃতি কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া। উন্নয়ন প্রকল্প, রিয়েল এস্টেট, করপোরেট স্বার্থ— সবই এখানে ক্রমবর্ধমান। কিন্তু তারা অতীতকে ‘অচল’ হিসেবে চিহ্নিত করে। স্মৃতি এখানে হতে থাকে অপ্রয়োজনীয় বোঝা।

এই কাঠামোগত বিস্মৃতি মানুষকেও শিখিয়ে দেয় দ্রুত ভুলতে। সম্পর্ক, প্রতিবাদ, প্রতিশ্রুতি, শোক বা ঐতিহ্য। সব কিছুই এখানে ক্ষণস্থায়ী। মহানগরীর মন তাই গভীর বেদনার বদলে দ্রুত অভিযোজন শিখে নেয়।

ইতিহাস মানুষকে ধারাবাহিকতা দেয়। সে জানে, সে কোথা থেকে এসেছে। মহানগরীতে এই ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। মানুষ এখানে অভিবাসী। মানুষ ঘরহারা কেবল ভৌগোলিক অর্থে নয়, মানসিক অর্থেও। সে বর্তমানের মধ্যে বাস করে; কিন্তু অতীতের সাথে সংযোগ হারায়।

সে ভাসমান; কিন্তু শেকড়হীন। সে স্বাধীন; কিন্তু অনিরাপদ।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠে, মহানগরীর কি আত্মা আছে? সামাজিক আত্মা বলতে যদি আমরা ধারাবাহিক স্মৃতি, নৈতিক ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক অনুভবকে বুঝি, তবে মহানগরী প্রায় আত্মাহীন। কিন্তু যদি আত্মা বলতে আমরা মানুষের ক্ষুদ্র মানবিক স্পন্দন বুঝি, তবে মহানগরীর আত্মা এখনো টিকে আছে। বেঁচে আছে মরতে মরতে, খণ্ডে খণ্ডে।

মহানগরীর অসুখ আসলে আলাদা কোনো রোগ নয়। এগুলো মানুষের অসুখেরই সমষ্টিগত রূপ। তাই এর প্রতিকারও কোনো একক প্রকল্প বা নীতিতে নেই। তা নিহিত আছে বহুস্তরীয়, ধীর, নৈতিক ও মানসিক চর্চায়।

নাগরিক জীবনে বহু পরিচয়ের দ্বিধা, মানসিক ভাঙন ও নিজের সাথে নিজের বিচ্ছেদের শিকার যে মানুষ, তাকেই খুঁজতে হবে প্রতিকার। তাকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে জীবনের একটি কেন্দ্রে। বিশ্বাস, মূল্যবোধ, নৈতিকতায় নোঙর ফেলতে হবে । তাওহিদ মানুষকে বলে, জীবনের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে এক সত্যের অধীনে আনো। নিজের লক্ষ্য, কাজ, অবসর, সম্পর্ককেও। তা হলে নিজের সাথে নিজের ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব কমবে। স্নায়বিক ক্লান্তি, উত্তেজনা, গভীর মনোযোগের অভাবে ক্ষত-বিক্ষত মানুষ রূহের দিকে ফিরবে। ধীরতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। সব কিছু দ্রুত না করার নৈতিক সাহস অর্জন করবে।

সে নিজের সত্তার নীরব জায়গা খুঁজে নেবে ও নীরব সময় সৃষ্টি করবে। প্রযুক্তির ওপর সীমা আরোপ করবে। সন্ধান করবে সাকিনা বা শান্তি ও রহমত। মনের জগতে উপার্জন করবে ইতমিনান বা স্থিতি-প্রশান্তি।

যেখানে সম্পর্ক আছে; কিন্তু অন্তরঙ্গতা নেই, যেখানে কথা আছে; কিন্তু আস্থা নেই, সেখানে জীবন কাতরাচ্ছে। এখানে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে না; বরং হৃদয় মরে যাচ্ছে। যে সম্পর্ক আখলাক-নিয়ন্ত্রিত নয়, তা শেষ পর্যন্ত কৃত্রিমতার ওপর দাঁড়ায়।

সেখানে আত্মিক স্তরে নিজের ভেতরে চাই প্রশ্নের জাগরণ। নিজেকেই বলতে হবে, আমি কি নিরাপদ মানুষ? মানুষ কি আমার কাছে নিজেকে উন্মুক্ত করতে পারে? আমি আমার চার পাশের জন্য সঙ্কট না সম্ভাবনা? আশা না আতঙ্ক? আজাব না রহমত?

যে শহর মানুষকে একাধিক মুখোশ পরতে বাধ্য করে, সেই শহরই আবার মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, আমি কোন মুখোশে সত্য? কোন পরিচয়ে আমি নৈতিক? এই আত্মজিজ্ঞাসাই মহানগরীর ভেতর জন্ম নেয়া নতুন দার্শনিক সম্ভাবনা। অতএব মহানগরীতে শুধু নৈতিক অবক্ষয় ও পচন নয়। এখানে নিহিত আছে নৈতিক আত্মপরীক্ষার বিস্তৃত ও বহুস্তরের ল্যাবরেটরিও।

লেখক : কবি, গবেষক

[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews