ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন এবং দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অফিস চালুর গুঞ্জনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ সারির যোদ্ধারা। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তিন শীর্ষ নেতার দেওয়া পোস্টে এই ক্ষোভ ফুটে উঠেছে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী আওয়ামী লীগের বর্তমান সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টাকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন, "Hasnat Abdullah কই? লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে।" আজ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "নির্বাচন তো হইলো, এইবার সংস্কার আর বিচার হইব।" তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ধরনের গোপন আঁতাত বা ছাড় দেওয়া হচ্ছে কি না, এমন সন্দেহের বিপরীতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর ভাষ্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাটোয়ারীর স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় তিনি লেখেন "সবকিছুই সমঝোতা"। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেকার সম্ভাব্য সমঝোতাকে জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন এবং এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই বীর সেনানি।
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বর্তমান পরিস্থিতিকে "সেই পুরোনো রাজনীতি" বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ক্ষমতার পালাবদল হলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং পুরোনো কায়দায় ক্ষমতার ভাগাভাগি ও অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার প্রবণতা জুলাইয়ের শহীদদের ত্যাগের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার শামিল।