দখলীকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের সাথে যুক্ত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের পাবলিক-সেক্টর চুক্তি থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চিত্র প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্তত ১৭টি প্রতিষ্ঠান যারা ফিলিস্তিনের দখলীকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি প্রক্রিয়ার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, তারা যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে ১২৫টি পাবলিক-সেক্টর চুক্তি হাসিল করেছে। এসব চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ২.১২৯ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
আল জাজিরার পর্যালোচনা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যানালিস্ট সংস্থা 'তুসেল' (Tussell)-এর তথ্যানুযায়ী, মার্কিন প্রযুক্তি ও যোগাযোগ জায়ান্ট মোটোরোলা সলিউশনস (Motorola Solutions)-এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো একাই ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি চুক্তি নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে অন্যতম বড় চুক্তিটি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত, যা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার জরুরি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সরবরাহ করে।
জাতিসংঘের তালিকায় চিহ্নিত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে জার্মানির হেডেলবার্গ মেটেরিয়ালস, ফ্রান্সের প্রকৌশল গোষ্ঠী ইজিস, স্পেনের ট্রেন প্রস্তুতকারক সিএএফ এবং চীনের ফোসুন গ্রুপ। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জমিতে পাথর খাদান পরিচালনা, নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহ এবং ইসরায়েলি নেটওয়ার্ক প্রসারে এসব প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রিজ আল জাজিরাকে বলেন, "জাতিসংঘ কর্তৃক চিহ্নিত এসব সত্তার সাথে চুক্তি অব্যাহত রেখে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করছে কি না, সেই সংশয় তীব্র হচ্ছে।"
এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির ১৪০ জনেরও বেশি লেবার পার্টির এমপি ইসরায়েলি অবৈধ বসতির সাথে সমস্ত ব্যবসা ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্য সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে যুক্তরাজ্যের পরোক্ষ সমর্থনেরই নামান্তর।