ইংলিশ ফুটবলে মূলত কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) হয়ে খেলার সুবাদে পরিচিতি পেয়েছিলেন বুজসাকি। ২০১১-১২ মৌসুমে কিউপিআরের প্রিমিয়ার লিগে ফেরার অভিযানের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ওই মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে দুটি গোলও করেছিলেন হাঙ্গেরিয়ান এই ফুটবলার।
বুজসাকির নিখোঁজ হওয়ার খবরটি অবশ্য তার পরিবারের কাছেও বিস্ময়কর।
হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যম ব্লিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার বাবা আকোস বুজসাকি সিনিয়র জানিয়েছেন, ছেলেকে পুলিশ খুঁজছে- এমন তথ্যই তিনি জানতেন না। ‘আমি জানতামই না যে পুলিশও আমার ছেলেকে খুঁজছে,’ বলেন তিনি।
বাবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুজসাকি বর্তমানে গ্রিসে বেশির ভাগ সময় কাটান। সেখানে নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। গত বছরও প্রায় পুরোটা সময় গ্রিসে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
‘সে মূলত গ্রিসেই অনেকটা সময় কাটায়। সেখানে নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে। গত বছর প্রায় পুরো সময়ই সে সেখানে ছিল। আমরা একই ছাদের নিচে থাকি না, তাই আমাদের মধ্যে আগের তুলনায় কম কথা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়,’ বলেন বুজসাকির বাবা।
হাঙ্গেরির ফুটবলে উঠে আসা বুজসাকি ক্যারিয়ারের বড় অংশই কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডে। কিউপিআরের আগে ও পরে তিনি ইংলিশ ফুটবলের আরও কয়েকটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। এর মধ্যে ছিল প্লাইমাউথ আর্গাইল ও পোর্টসমাউথ।
তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় কিউপিআরে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে খেলেন তিনি। তার সময়েই কিউপিআর আবার ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে ফিরে আসে।
২০১১-১২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার পরও দলের সঙ্গে ছিলেন বুজসাকি। সেবার শীর্ষ লিগে ২টি গোল করেন তিনি। কিউপিআর ছাড়ার পরও ইংলিশ ফুটবলে ছিলেন কিছুদিন। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান এই হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার।
ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি হাঙ্গেরির জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন বুজসাকি। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের চেয়ে ইংল্যান্ডে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারই তাকে বেশি পরিচিতি এনে দেয়।
এখন সেই সাবেক প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলারকে নিয়েই উদ্বিগ্ন তার পরিবার ও হাঙ্গেরির পুলিশ। ১৮ আগস্ট থেকে নিখোঁজ বুজসাকির সন্ধানে তদন্ত চলছে। তার অবস্থান সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।