নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় রাজনৈতিক তৎপরতা ও কার্যালয় খোলার চেষ্টা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একইসাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রক্তস্নাত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে সংস্কার এবং অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। পোস্টে তিনি কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহকে ট্যাগ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে লিখেছেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ কই? লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে। নির্বাচন তো হইলো, এইবার সংস্কার আর বিচার হইব্বে।’
তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কিছু গোপন ও প্রকাশ্য তৎপরতা নিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারিগরদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনেক কর্মকাণ্ডই সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের দলীয় কার্যালয় খোলা বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টাকে ‘শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি’ হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই ফেসবুক স্ট্যাটাস সেই জনআকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিধ্বনিত করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলেও, ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা—অর্থাৎ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কারের দাবি থেকে যে তারা পিছু হটেননি, নাসীরুদ্দীনের এই পোস্ট তারই প্রমাণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।