রাজনীতির পরিচিত ময়দান, জনসভা কিংবা রাজপথের স্লোগান ছাপিয়ে এক অন্যরকম তারেক রহমানের চিত্র ফুটে উঠেছে ‘সবার আগে হাসিমুখ’ নামক ৪৫ মিনিটের এক বিশেষ তথ্যচিত্রে। যেখানে তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নন, বরং এক নিভৃতচারী অভিভাবক এবং আর্তমানবতার পরম বন্ধু।

বিজ্ঞাপন

প্রচারের আড়ালে থেকে গত দেড়-দুই দশক ধরে তিনি কীভাবে নিঃশব্দে অসহায় মানুষ, মেধাবী শিক্ষার্থী এমনকি নির্বাক প্রাণীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই সব হৃদয়স্পর্শী সত্য ঘটনাগুলোই এই তথ্যচিত্রের মূল উপজীব্য। 

তথ্যচিত্রটির শুরুতেই তারেক রহমান নিজেই একটি সাধারণ অথচ মানবিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে এক অসুস্থ নারী ও তার শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি বিচলিত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীদের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরবর্তীতে ওই নারীর জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। 

বিজ্ঞাপন

তথ্যচিত্রে এক শোকার্ত পরিবারের গল্প উঠে আসে, যারা তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। ওই পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার মৃত্যুর পর তারা যখন চরম অর্থকষ্টে ছিলেন, তখন ডা. আমান উল্লাহ আমানের মাধ্যমে তারেক রহমান নিয়মিত মাসিক অনুদান পাঠাতেন।

এমনকি ২০০৭-০৮ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় যখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তখনও তিনি কারাবন্দী থাকা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ওই এতিম মেয়েদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে চলা এই ধারাবাহিক সহায়তায় আজ সেই পরিবারের এতিম মেয়েরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মেয়েদের সবসময় বলতাম যে, আগে তারা যেন লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তারা নিজের পায়ে দাঁড়ালে ফ্যামিলিটার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে। বিয়ে তো করবেই, সেটা দুদিন আগে হোক বা পরে হোক, বলেন তারেক রহমান।

অনুরূপ এক চিত্র দেখা যায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া আমির হোসেনের পরিবারে। তার স্ত্রী জানান, অভাবের দিনে যখন তাদের কেউ ছিল না, তখন তারেক রহমান তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এমনকি সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসও জুগিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

নিজের কারাজীবনের এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, জেলখানায় অনেক অসহায় ও বয়স্ক কয়েদিদের শীতের কাপড়ের তীব্র অভাব ছিল। আদালতের শুনানির দিন তিনি তার সহকর্মীদের মাধ্যমে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে বিপুল পরিমাণ চাদর ও সোয়েটার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন, যা নিঃস্বার্থভাবে অভাবী কয়েদিদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

তথ্যচিত্রটিতে সুবিধাভোগীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে প্রচারবিমুখ এই নেতা কীভাবে জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, দীর্ঘদিনের অসহায় দুস্থ মানুষ এবং প্রতিভাবান শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার বিস্তারিত বিবরণ।

আর্থিক সংকটে পিষ্ট অনেক মেধাবী মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীর স্বপ্নের সারথি হয়েছেন তারেক রহমান। তথ্যচিত্রে একজন কৃতি চিকিৎসকের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পরিবারের চরম অর্থকষ্টে যখন তার ডাক্তারি পড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছিল, তখন তারেক রহমানের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ তাকে নতুন জীবন দেয়। প্রথম বর্ষ থেকে ইন্টার্নি পর্যন্ত পুরো আর্থিক ব্যয়ভার বহন করার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সেই শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খোঁজ নিতেন।

স্কলারশিপ পাওয়া বর্তমান ওই চিকিৎসক বলেন, আমাদের পুরো ফ্যামিলিতে কোনো ডাক্তার নেই। যখন এই হেল্পটা (স্কলারশিপ) আসল, আমার বাবার জন্য সেটা ছিল এক বিশাল স্বস্তি। প্রথম বর্ষ থেকে ইন্টার্নি পর্যন্ত পুরো সময়টা তারা আমাকে ফাইনান্সিয়াল সাপোর্ট দিয়েছেন। আজ আমি যে মানুষের সেবা করতে পারছি, এটা সম্ভব হতো না যদি ওই সময় তারা আমার পাশে না দাঁড়াতেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া তরুণ আব্দুল্লাহর পরিবারের কাহিনীটি ছিল সবচেয়ে বেশি আবেগঘন। শহীদ আব্দুল্লাহকে হারিয়ে যখন তার মা পাগলপ্রায়, ঠিক তখনই ছোট ছেলে জিসানের কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে। এই দ্বিমুখী সংকটে তারেক রহমান নিজে ফোন করে আব্দুল্লাহর মাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং বলেছেন, আমি আপনার বড় ছেলের মতো পাশে আছি। বর্তমানে জিসানের প্রতিটি কেমোথেরাপি ও অপারেশনের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছে ‘বিএনপি পরিবার’।

শহীদ আব্দুল্লাহর মা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জিসানের প্রত্যেকটা কেমোর টাকা ‘আমরা ‘বিএনপি পরিবারের’ পক্ষ থেকে পাইছি। উপর আল্লাহর পরে যদি কেউ আমাকে সাহায্য করে থাকে, তবে তা তারেক রহমান... তিনি নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন—আমি আপনার বড় ছেলের মতো পাশে আছি, আপনি শক্ত থাকেন।

তথ্যচিত্রে আরও দেখা যায়, কয়েক বছর আগে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হন। বেঁচে থাকা সদস্যরা নিদারুণ অর্থকষ্টে এবং অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাদের আর্থিক সুবিধা দিলে কেউ তা ছিনিয়ে নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তারেক রহমান তাদের জন্য মাসিক ‘এসেনশিয়াল ফুড আইটেম’ বা অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। চাল, ডাল, তেলসহ দৈনন্দিন বাজার বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া বৃদ্ধ বলেন,আল্লাহ রহম করছে, উনারা আছেন বলে ভিক্ষা করা লাগে না। কয়েক বছর ধরে প্রত্যেক মাসে আমাদের বাড়িতে চাল, ডাল, তেল সব পাঠাইয়া দেয়। এক মাসের জন্যও এই সাহায্য বন্ধ হয় নাই। উনি যে উপকার করছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

তথ্যচিত্রের প্রাণীদের প্রতি তারেক রহমানের সহমর্মিতার এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। পথপ্রাণীদের কল্যাণে কাজ করা একটি আশ্রমেও দীর্ঘ বছর ধরে গোপনে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। ঢাকার বাইরে একটি স্ট্রে অ্যানিমেল শেল্টারের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে সহায়তার হাত বাড়ান। ওই শেল্টারের কুকুর-বিড়ালের খাবারের জন্য নিয়মিত মাসিক অনুদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি অ্যানিমেল অ্যাম্বুলেন্স এবং অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়।

প্রাণিকুলের নিরাপদ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সৃষ্টিকর্তার প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি যত্নশীল হওয়া আমাদের দায়িত্ব। ওই আশ্রমের পরিচালক জানান, তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমান প্রাণীদের খাবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে নিয়মিত অনুদান পাঠাচ্ছেন।

যশোরে এক অসহায় মা, যার স্বামী তাকে ও তার কোলের সন্তানকে ফেলে চলে গেছেন, তার জীবন সংগ্রামের কথা উঠে এসেছে এই তথ্যচিত্রে। থাকার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় এক জরাজীর্ণ টালির ঘরে জীবন কাটছিল তাদের। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়ে তারেক রহমান সেই মায়ের জন্য একটি স্থায়ী ঘর তৈরি করে দিয়েছেন এবং শিশুটির আজীবনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন।

কেবল আর্থিক সহায়তাই নয়, তৃণমূলের প্রতিভাবান শিশুদের প্রতিভা বিকাশেও কাজ করছেন তারেক রহমান। তথ্যচিত্রে সোহান নামে এক ক্ষুদে ফুটবলারের কথা উল্লেখ করা হয়, যে অভাবের কারণে খালি পায়ে ফুটবল খেলত। সাবেক ফুটবলার আমিনুলের মাধ্যমে সোহানকে খুঁজে বের করে তাকে উন্নত বুট, জার্সি এবং মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তারেক রহমান, যাতে সে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারে।

আমাদের এই প্রতিভাবানদেরকে যদি আমরা প্রপারলি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে এই মানুষগুলোকে দিয়ে আমরা দেশের জন্য সুনাম ও সম্মান বয়ে নিয়ে আসতে পারি। এটা ভেরি মাচ পসিবল, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, এই সহায়তা কেবল দলীয় কর্মীদের জন্য নয়, বরং দলমত নির্বিশেষে যেকোনো অসহায় মানুষের জন্য। আমার মূল লক্ষ্য হলো শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।

যারা এই কাজগুলো করতে পছন্দ করে... দলমত নির্বিশেষে এরকম অনেক মানুষকে আমরা চেষ্টা করেছি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। যারা আমাদের দলই করে না, আমাদের দলের সাথে যাদের কোনো সম্পর্কই নেই—কিন্তু মানুষটা অসহায়, তার একটা সহযোগিতা প্রয়োজন—আমরা করেছি, বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবনের প্রচারবিমুখ ও নিভৃত মানবিক দিকগুলো নিয়ে নির্মিত প্রথম তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’-এর প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুবায়ের বাবু পরিচালিত এই তথ্যচিত্রটি দেখার পর উপস্থিত দর্শক ও বিশিষ্টজনেরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তারেক রহমানের অজানা মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

আরটিভি/এআর



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews