পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা বিদ্রোহী শিবির। একই সঙ্গে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠন এবং সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

রোববার কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে বিদ্রোহী শিবিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, তারক সিং, অসীম বসু, জুঁই বিশ্বাসসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক সাবেক জনপ্রতিনিধি।

বৈঠক শেষে বিদ্রোহী নেতারা দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস তার প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ থেকে সরে গেছে। সেই কারণে দলকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে আনা একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, বর্তমানে যে নেতৃত্ব দল পরিচালনা করছে তারা তৃণমূলের প্রকৃত চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে কলকাতা পুরসভার ৫০ জনেরও বেশি সাবেক কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মুর্শিদাবাদ, বহরমপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও সাবেক কাউন্সিলররা যোগ দেন। 

বিদ্রোহী নেতাদের দাবি, শুধু বিধায়ক বা সাংসদ নন, তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের বহু নেতাকর্মীও বর্তমান নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট। রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে বৈঠকের মঞ্চসজ্জা। সেখানে দলের প্রতীক থাকলেও তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি দেখা যায়নি। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা অবশ্য দাবি করেছেন, তাদের লড়াই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং সংগঠনকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করার ঘোষণাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে এর আগে বিভিন্ন সময়ে দলীয় অসন্তোষ প্রকাশ্যে এলেও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপের ঘোষণা নজিরবিহীন। যদিও বিদ্রোহী শিবিরের এই সিদ্ধান্তের কোনো সাংগঠনিক বা আইনগত বৈধতা রয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলীয় সূত্রের একাংশ অবশ্য এই বৈঠককে গুরুত্ব দিতে নারাজ। 

তাদের মতে, দলবিরোধী কিছু নেতার সমাবেশকে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ নেই। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিদ্রোহী শিবিরের এই পদক্ষেপ তারই বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর এই ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে। যদিও বিদ্রোহী শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থনের প্রকৃত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়ে বিদ্রোহী শিবির রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের ভেতরে এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত কত দূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews