শেষ কবে জোনাকি পোকা দেখেছেন, বলতে পারবেন? জোনাকি পোকার কথা তো দূরের কথা, আকাশভরা জোছনার আলোও তো এখন আর দেখা হয় না। এই শহর, এই শহরের মানুষগুলো কেমন যেন! তারা ব্যস্ততার অজুহাতে জোছনা আর জোনাকি পোকার জীবন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। আর এই প্রজন্ম মোবাইলের ছোট্ট স্ক্রিনকেই নিজের পৃথিবী বানিয়ে নিয়েছে। অথচ আমাদের শৈশব-কৈশোরের জীবনটা কত সুন্দরই না ছিল! আজ নাহয় সে কথাই বলি। আজকের গল্প সত্যি, একদল উচ্ছল মানুষের জীবনের গল্প।

ছোট্ট একটি গ্রাম, দক্ষিণ নাজিরপুর। যে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সন্ধ্যা নদী। আহ, কী অপরূপ তার সৌন্দর্য, আবার একই সঙ্গে কী ভয়াবহতা! নদীর ভরা জলে পা ডুবিয়ে গল্প করতাম। ডিগবাজি খেয়ে পানিতে পড়তাম। কাদায় ফুটবল খেলে একলাফে নদীতে ঝাঁপ দিতাম। ফুটবল খেলে নদীতে যাওয়ার আগে দেখতাম, কারও গাছে পেয়ারা, বরই এসব আছে কি না। নাজিরপুর স্কুলের পাশ দিয়ে কয়েকটি বাড়ি পেরিয়ে সন্ধ্যা নদীতে যাওয়ার যে পথ, এতই সুন্দর ছিল, তা বলে বোঝানো যাবে না। এরপর নদী যখন ভেঙে আরও মাঠের কাছে চলে এল, তখন তো ইচ্ছে হলেই নদীতে ঝাঁপ দেওয়া যেত।

তবে নদীর ভয়াবহ দিক হলো তার ভাঙন। নদীভাঙনে কত মানুষ সব হারিয়েছে, তার হিসাব নেই। আমাদের মূল বাড়িটাও নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে। বাবার কবরটাও নদীতে চলে গেছে। বসতবাড়ি, বড় বড় বাগান—সবকিছু। এখন পুরো নদীটাই যেন বাবার কবর হয়ে আমার চোখে ধরা দেয়। নদী দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

সিদ্দিক ভাইদের একটি বড় নৌকা ছিল ধান-চাল আনার জন্য। নৌকার ভেতরে থাকার সুন্দর ব্যবস্থা ছিল। রান্নাও করা যেত। আমি, সিদ্দিক ভাইয়ের ছেলে ঝিলনসহ আরও অনেকে সেখানে বসে পিকনিক করেছি। নদীতে নৌকা চলছে, আর এদিকে একদল অনাড়ির রান্না—ওহ, সে কী আনন্দ! লিখে বোঝানোর উপায় নেই। আমাদের তখন সংসারে অভাব ছিল, কিন্তু জীবনে এমন আনন্দের কোনো কমতি ছিল না।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews