বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলে শিরোপা না জেতা দল হলো নেদারল্যান্ডস। এবারের আসরে সেই ডাচরা আছে গ্রুপ ‘এফ’-এ। তাদের সঙ্গে আছে জাপান, সুইডেন এবং তিউনিসিয়ার মতো দল। এই গ্রুপের চারটি দলই ভিন্ন ভিন্নভাবে শক্তিশালী। সে কারণে গ্রুপটা আগেভাগেই লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে শেষ পর্যন্ত।
গ্রুপ এফ ম্যাচসূচি:
নেদারল্যান্ডস-জাপান, ১৪ জুন ২০২৬, ডালাস স্টেডিয়াম
সুইডেন-তিউনিসিয়া, ১৪ জুন ২০২৬, এস্তাদিও মন্টেরে
নেদারল্যান্ডস-সুইডেন, ২০ জুন ২০২৬, হিউস্টন স্টেডিয়াম
তিউনিসিয়া-জাপান, ২০ জুন ২০২৬, এস্তাদিও মন্টেরে
জাপান-সুইডেন, ২৫ জুন ২০২৬, ডালাস স্টেডিয়াম
তিউনিসিয়া-নেদারল্যান্ডস, ২৫ জুন ২০২৬, কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
দল প্রিভিউ- নেদারল্যান্ডস
নেদারল্যান্ডস এই এফ গ্রুপের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল। কোচ রোনাল্ড কোম্যানের হাতে দলটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। বিশ্বকাপে তিনটি ফাইনাল খেললেও নেদারল্যান্ডস কখনো শিরোপা জেতেনি। এই ব্যর্থতার বোঝা এখনো দলটির সঙ্গেই আছে। সে ব্যর্থতা ঘোচানোর একটা স্বপ্ন এবারও থাকবে কমলা বিপ্লবীদের। তবে আপাতত তাদের লক্ষ্য হবে প্রত্যেকটা ম্যাচ ধরে ধরে সামনে এগোনো।
আক্রমণ
কোডি গাকপো এই দলের প্রধান অ্যাটাকার। লিভারপুলে তিনি নিয়মিত গোল করছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তিনি সমান বিপজ্জনক।
মেমফিস ডিপাই নেদারল্যান্ডসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিনি রবিন ফন পার্সিকে টপকে এই রেকর্ড গড়েছেন। তবে মার্চ মাসে উরুর চোটের কারণে তিনি ক্যাম্পে ছিলেন না।
এই নেদারল্যান্ডস ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বেশি বিপদ তৈরি করে থাকে। সেট পিসে ফন ডাইকের হেড তাদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলের উৎস।
মিডফিল্ড
রেইনডার্স এবং ফ্রেংকি ডি ইয়ং মিলে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। রেইনডার্স লেট রান নিয়ে আক্রমণে ঢুকে গোল করার ক্ষমতা রাখেন। কোম্যান ডাবল পিভট হিসেবে ডি ইয়ং ও রায়ান গ্রাভেনবার্চকে ব্যবহার করেন। এই দুজন মিলে রক্ষণ ও আক্রমণের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করেন।
জাভি সিমন্স হাঁটুর চোটে ছিটকে পড়েছেন। তাই রেইনডার্সকে ১০ নম্বর পজিশনে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।
ডামফ্রিস ডান দিক থেকে প্রচুর উইং সাপোর্ট দেন। মিকি ফন ডি ভেন অথবা নাথান আকে বাম দিকে গতি আনতে পারেন।
রক্ষণ
ফন ডাইক ৩৪ বছর বয়সেও দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তার পজিশনিং ও হেড করার ক্ষমতা এখনো অসাধারণ। মিকি ফন ডি ভেনের বিস্ফোরক গতি রক্ষণকে আলাদা মাত্রা দেয়। টিম্বারের ফিরে আসা দলের ডিফেন্সিভ গভীরতা বাড়িয়েছে। জেরেমি ফ্রিমপং বা ডামফ্রিস রাইটব্যাকে আক্রমণ ও রক্ষণ দুটোই সামলান।
গোলকিপার হিসেবে বার্ট ভারব্রুগেন এগিয়ে আছেন। মার্ক ফ্লেকেনও তার সাথে প্রতিযোগিতায় আছেন প্রথম পছন্দের গোলকিপার হওয়ার দৌড়ে।
সম্ভাব্য একাদশ
ভারব্রুগেন; ডামফ্রিস, ফন ডাইক, আকে, ফন ডি ভেন; গ্রাভেনবার্চ, ডি ইয়ং; মালেন, রেইনডার্স, গাকপো; ডিপাই।
সেট পিস
কর্নার: মেমফিস ডিপাই, গাকপো, কুপমাইনার্স, রেইনডার্স, ক্লুইভার্ট।
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: মেমফিস ডিপাই ও রেইনডার্স।
পেনাল্টি: মেমফিস ডিপাই, গাকপো, ভাউট ভেগহর্স্ট।
চ্যালেঞ্জ
প্রথম একাদশ ও রোটেশন বিকল্পের মধ্যে মানের ব্যবধান কমাতে হবে। মেমফিস ডিপাইের ফিটনেস নিশ্চিত করা জরুরি।
সেন্টার ফরোয়ার্ডের সমস্যার সমাধান করতে হবে। ইকুয়েডর ম্যাচে ডামফ্রিস লাল কার্ড পান এবং দল ১-১ ড্র করে। এই ধরনের ব্যক্তিগত ভুল টুর্নামেন্টে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
দল প্রিভিউ- জাপান
জাপানের শেষ কিছু দিনের কীর্তি দেখুন, ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়, ইংল্যান্ডকে তাদের মাটিতে হারানো, স্কটল্যান্ডকে তাদের মাটিতে হারানো… এমন একটা দলকে যদি স্রেফ ‘ডার্ক হর্স’ বলেন, তাহলে তাদেরকে অনেকটাই খাটো করে দেখা হয় বোধ করি। শেষ দুই তিন উইন্ডোয় জাপানিরা দেখিয়েছে, এশিয়ান জায়ান্টরা এবার বিশ্বমঞ্চে আলো কেড়ে নিতে প্রস্তুত।
কোচ হাজিমে মোরিয়াসু এই দলকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা স্পেন ও জার্মানিকে হারিয়েছিল। ২০২৬ সালের আসরের আগে জায়ান্টদের হারিয়ে জাপান জানান দিয়েছে, এসব এখন ডালভাত হয়ে গেছে। এবার তাদের সে অভ্যাসটা ধরে রাখার পালা।
আক্রমণ
তাকেফুসা কুবোকে এই দলের ‘মেসি’ বলা হয়। রিয়েল সোসিয়েদাদের এই তারকাই দলের আক্রমণের প্রাণভোমরা, দলের সবচেয়ে সৃজনশীল খেলোয়াড় তিনি। তিনি ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারেন এবং এক পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দিতে পারেন।
কাউরো মিতোমা লেফট উইংয়ে এই দলে দারুণ ব্যালেন্স এনে দিতে পারতেন। কিন্তু হ্যামস্ট্রিং চোটে বিশ্বকাপ মিস করছেন তিনি। জাপানের জন্য যা বড় এক ধাক্কা। মিতোমার অনুপস্থিতিতে জুনিয়া ইতো এবং কেইতো নাকামুরা বেশি সুযোগ পাবেন।
আয়াসে উয়েদা মাঠের মাঝমাঠে প্রেস ও গোল দুটোই করতে পারেন। উইং ব্যাকরা বল দখলে থাকলে আক্রমণের সহায়তা করেন।
জাপান সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তটা তৈরি করে যখন তারা মাঠের মাঝখানে বল জিতে নিয়ে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে ওঠে তখন।
মিডফিল্ড
ওয়াতারু এন্দো লিভারপুলে খেলেন এবং জাপানের মিডফিল্ডের মূল ভরসা। তিনি ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসেবে প্রেসিং সিস্টেমকে টিকিয়ে রাখেন।
দলের পছন্দের ফর্মেশন হলো ৩-৪-২-১ বা ৩-৪-৩। স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ড উভয়ের বিরুদ্ধে এই ফর্মেশন সমস্যা তৈরি করেছে।
উইং ব্যাকরা বল দখলে থাকলে ফাইনাল থার্ডে থাকেন। সে কারণে মিডফিল্ডের ওপর দায়িত্বটা বেশি বর্তায়।
রক্ষণ
হিরোকি ইতো, শোগো তানিগুচি ও কো ইতাকুরাকে নিয়ে তিন সেন্টার ব্যাকের রক্ষণ গঠিত। ইতো বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর বাম সেন্টার ব্যাক পজিশন এখন আরো শক্ত।
জিওন সুজুকি গোলকিপার হিসেবে ইতালির পারমায় খেলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চাপের মধ্যে তিনি ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
সম্ভাব্য একাদশ
সুজুকি; তানিগুচি, ইতাকুরা, ইতো; দোয়ান, সানো, কামাদা, নাকামুরা; কুবো, উয়েদা, ইতো।
সেট পিস
কর্নার: কুবো, জুনিয়া ইতো, ইউইতো সুজুকি, রিউনোসুকে সাতো, কাইশু সানো।
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: কুবো ও জুনিয়া ইতো।
পেনাল্টি: উয়েদা, রিৎসু দোয়ান, জুনিয়া ইতো।
চ্যালেঞ্জ
নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে হাই প্রেস ও ডিপ ব্লকের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রাখতে হবে। ডাচরা বল দখলে রাখতে পছন্দ করে।
ট্রানজিশনে তৈরি করা সুযোগগুলো বেশি কাজে লাগাতে হবে। জাপান সুযোগের তুলনায় কম গোল করে এবং বিশ্বকাপে এই ঘাটতি মারাত্মক হতে পারে।
তিনটি ম্যাচে উইং ব্যাকদের শারীরিক ধকল সামলাতে হবে। সিস্টেমটি এই পজিশনের খেলোয়াড়দের ওপর প্রচুর নির্ভর করে।
মিতোমার অনুপস্থিতিতে বাম দিকের আক্রমণ কতটা কার্যকর থাকে সেটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
দলটির রক্ষণের দুর্বলতা হলো প্রেসিং কাটিয়ে দ্রুত বল পাঠালে পিছনে জায়গা তৈরি হয়। তিন সেন্টার ব্যাকের রিকভারি স্পিড তখন পরীক্ষার মুখে পড়ে।
টিম প্রিভিউ-সুইডেন
সুইডেনের বিশ্বকাপের টিকিট কাটার গল্পটা বিস্ময়কর। সুইডিশরা মূল বাছাইপর্বে একটিও ম্যাচ জেতেনি, সবার তলানিতে থেকে পর্বটি শেষ করেছিল। যার ফলে আগের কোচকেও বরখাস্ত করা হয়।
এরপরও দলটি বিশ্বকাপে চলে এসেছে, তার কারণ নেশন্স লিগ। সেই টুর্নামেন্টে র্যাঙ্কিংইয়ের কারণে সে পথ দিয়ে প্লে-অফে উঠে যায় তারা, প্লে অফে ইউক্রেন আর পোল্যান্ডকে হারিয়ে চলে আসে বিশ্বকাপে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে গ্রাহাম পটার স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে কোচ হন। পটার মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে সুইডেনকে বিশ্বকাপে নিয়ে যান। তার চুক্তি এরপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আক্রমণ
আর্সেনালকে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জেতানো স্ট্রাইকার ভিক্টর ইয়োকেরেশ সুইডেনের গোলের প্রধান ভরসা। পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফ ফাইনালে ৮৮তম মিনিটে তার গোলে সুইডেন বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ইউক্রেন ম্যাচে ইসাক ও কুলুসেভস্কি দুজনই অনুপস্থিত ছিলেন।
লিভারপুল ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক এই দলের দ্বিতীয় প্রধান অ্যাটাকার। ইয়োকেরেশ ও ইসাক একসাথে খেললে বিপক্ষ দলের জন্য সামলানো কঠিন হয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি এলেঙ্গার গতি ও ডিরেক্ট আক্রমণ পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফ ফাইনালে দলকে দারুণ সাহায্য করেছে। বিশ্বকাপেও একই দৃশ্যের দেখা মিলতে পারে।
মিডফিল্ড
লুকাস বের্গভাল সুইডেনের সবচেয়ে সৃজনশীল মিডফিল্ড অপশন। তবে মার্চে পটার ইয়াসিন আয়ারি ও জেস্পার কার্লস্ট্রমের জুটিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে উইং ব্যাকরা ওপরে গিয়ে সাপোর্ট দেন।
মিডফিল্ডকে পটারের সিস্টেমে রক্ষণ ও আক্রমণ দুটোই সামলাতে হয়। বাছাই পর্বে মিডফিল্ড স্ক্রিনিং যথেষ্ট শক্ত ছিল না। প্রতিপক্ষ মিডফিল্ড পেরিয়ে সহজে আক্রমণে যেতে পেরেছে।
রক্ষণ
তিন সেন্টার ব্যাকে কার্ল স্টারফেল্ট, ইসাক হিয়েন ও ভিক্টর লিন্ডেলফ খেলেন। তারা এরিয়াল বলে শক্তিশালী, বলও দখলে রাখতে পারেন বেশ। তবে বাছাই পর্বে সুইডেন ছয় ম্যাচে ১২ গোল হজম করেছে। এই দুর্বলতা পটার কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু পুরোপুরি সারেনি।
পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই গোল খেলেও সংগঠিত থেকে ম্যাচ জেতা উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ট গোলকিপার। তিনি গালাতাসারাইয়ে খেলেন, তবে ক্লাবে ফর্ম কিছুটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্ভাব্য একাদশ
নর্ডফেল্ট; হিয়েন, লাগেরবিয়েলকে, লিন্ডেলফ; সভেনসন, কার্লস্ট্রম, আয়ারি, গুডমুন্ডসন; এলাঙ্গা, ইয়োকেরেশ, ইসাক।
সেট পিস
কর্নার: বেনইয়ামিন নাইগ্রেন, ইয়াসিন আয়ারি, অ্যান্থনি এলাঙ্গা, এমিল ফর্সবার্গ।
পেনাল্টি: ভিক্টর ইয়োকেরেশ, আলেকজান্ডার ইসাক।
চ্যালেঞ্জ
ইসাক ও কুলুসেভস্কি দুজনই চোট থেকে ফিরছেন। জুনের আগে তাদের ফিটনেস নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই দুজনের থাকা না থাকার পার্থক্য বিশাল।
রক্ষণে গোল হজম করার হার কমাতে হবে। বাছাইপর্বের ১২ গোল হজম করার ক্ষত এখনো সারেনি।
১৪ জুনের তিউনিসিয়া ম্যাচ মাস্ট-উইন হিসেবে দেখতে হবে। সেই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে বাকি পথ অনেক কঠিন হয়ে যাবে।
দল প্রিভিউ-তিউনিসিয়া
তিউনিসিয়া এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। দেশটির ফুটবল যে ধীরে ধীরে মহীরুহ হয়ে উঠছে আফ্রিকান ফুটবলে, তার প্রমাণ এই ‘হ্যাটট্রিক’।
২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সকে তিউনিসিয়া গ্রুপপর্বে হারিয়ে দিয়েছিল। তবে বাকি দুই ম্যাচের একটিতেও জয় না পাওয়ায় গ্রুপ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল।
তিউনিসিয়া এবার বিশ্বকাপে এসেছে কোচ সাব্রি লামুসির অধীনে। তিনি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেন। মার্চে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে এবং কানাডার সাথে ০-০ ড্র করেছে তারা।
আক্রমণ
হান্নিবাল মেজব্রি দলের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সৃজনশীল খেলোয়াড়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একাডেমি থেকে আসা এই মিডফিল্ডার বার্নলিতে প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত দক্ষতায় কম্প্যাক্ট ডিফেন্স ভাঙতে পারেন।
খালিল আয়ারি পিএসজির তরুণ খেলোয়াড়। কানাডার বিরুদ্ধে বিকল্প হিসেবে নেমে নজর কেড়েছেন। তার সরাসরি খেলার ধরন যেকোনো প্রতিপক্ষকে অবাক করতে পারে। এলিয়াস সাদ দলের মূল স্ট্রাইকার এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলের উৎস। আলি এল আবদি ও ইয়ান ভ্যালেরি ওয়াইড পজিশনে শক্তি ও ক্রসিং নিয়ে আসেন।
মিডফিল্ড
ইলিয়েস স্কিরি আইন্ট্রাখট ফ্রাংকফুর্টে খেলেন। তার ৮০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে। তিনি মিডফিল্ডের ভিত্তি এবং রক্ষণের সংগঠক। স্কিরি প্রচুর জায়গা কভার করেন এবং বিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই ভাঙতে পারেন।
হান্নিবাল আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড অপশন হিসেবে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এই দুজনের কম্বিনেশন তিউনিসিয়ার মিডফিল্ডকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী করেছে।
রক্ষণ
আয়মেন দাহমেন গোলকিপার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলে আছেন। মন্তাসার তালবি ডিফেন্সের সংগঠক হিসেবে পিছনের লাইনকে নিয়ন্ত্রণ করেন। ওমর রেকিক বা ডিলান ব্রন সেন্টার ব্যাক পজিশনে চাপের মধ্যে বল খেলতে পারেন।
কানাডার বিরুদ্ধে ০-০ ড্র দলটির রক্ষণের শক্তি দেখিয়েছে। কানাডা সুযোগ তৈরি করলেও তিউনিসিয়ার ব্লক ধরে রেখেছে। এই রক্ষণমূলক শৃঙ্খলাই দলটির সবচেয়ে বড় সম্পদ।
সম্ভাব্য একাদশ
দাহমেন; ভ্যালেরি, তালবি, ব্রন, এল আবদি; স্কিরি, খেদিরা; আচুরি, হান্নিবাল, বেন স্লিমানে; সাদ।
সেট পিস
কর্নার: আলি আবদি, হান্নিবাল, ইসমাইল ঘারবি, এলিয়াস সাদ।
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: হান্নিবাল ও স্কিরি।
পেনাল্টি: আলি আবদি, মোহাম্মেদ আলি বেন রমধানে, ইসমাইল ঘারবি।
চ্যালেঞ্জ
ফাইনাল থার্ডে ধারাবাহিক গোল পাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। স্ট্রাইকার গোল না করলে গোলের অন্য উৎস কম।
১৪ জুনের সুইডেন ম্যাচকে সবচেয়ে জেতার মতো ম্যাচ হিসেবে দেখতে হবে। সেই ম্যাচে ডিফেন্সিভ শৃঙ্খলা ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ কাজে লাগাতে হবে।
প্রেডিকশন
নেদারল্যান্ডস গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। ফন ডাইকের রক্ষণ নেতৃত্ব, রেইনডার্সের সৃজনশীলতা এবং গাকপোর আক্রমণ মিলিয়ে এই দল বাকিদের চেয়ে এগিয়ে। কোম্যান একাধিক টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ কোচ এবং তিনি গ্রুপ পর্বে সতর্ক থাকবেন।
দ্বিতীয় স্থানের লড়াই হবে জমজমাট। ১৪ জুন একই রাতে দুটো গ্রুপের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে ম্যাচ হবে।
জাপান ওয়েম্বলির আত্মবিশ্বাস নিয়ে ডালাসে নামবে। তারা মোরিয়াসুর অধীনে পজেশনধারী দলের বিরুদ্ধে রক্ষণ করে পাল্টা আক্রমণে দারুণ। নেদারল্যান্ডস ঠিক সেই ধরনের দল। তাই এই ম্যাচ যেকোনো দিকে যেতে পারে।
সুইডেনের কাছে ইয়োকেরেশ আছেন এবং পটারের ৩-৪-২-১ সিস্টেম ঠিকঠাক চললে তারা তিউনিসিয়াকে হারাতে পারবে। ইসাক পুরোপুরি ফিট থাকলে ২৫ জুনের জাপান ম্যাচেও সুইডেন লড়াই করতে পারবে।
তিউনিসিয়ার বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো সুইডেনের কাছ থেকে পয়েন্ট নেওয়া। নেদারল্যান্ডস ও জাপানের বিরুদ্ধে রক্ষণে থেকে সম্মানজনক ফলাফল করা।
হান্নিবাল যদি ছন্দে থাকেন এবং রক্ষণ টিকে থাকে তাহলে তারা যেকোনো রাতে অঘটন ঘটাতে পারে। ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারানো এই দলের পক্ষে এবার সে কীর্তির পুনরাবৃত্তি একেবারে অসম্ভবও নয়।