আরেকজন, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির টানা ১০ বছর সভাপতি থাকার পর, ফুল টাইম রাজনীতি করার পর হঠাৎ করে ৪৪ বছরে পৌঁছে এক মধ্য বয়স্ক ভদ্রলোক আবিষ্কার করলেন তিনি আর ফুলটাইম দলটি করতে পারছেন না। যেকোনো কারণেই হোক, যার সীমাবদ্ধতার কারণেই হোক এই ব্যক্তির পক্ষে দল করা আর সম্ভব না। এই ভদ্রলোক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার পর ফুল টাইম রাজনীতি করবে দেখে আর পড়াশোনা কন্টিনিউ করেনি। জীবনে কোনদিন কোন চাকরি করেনি, ব্যবসা করেনি, রেজুমি বলে কিছু দাঁড়ায়নি। ফুলটাইম পলিটিক্স করবে বলে সবকিছু ছেড়েছুড়ে সমস্ত জীবনকে ব্যপ্ত করে রাজনীতিটাই করেছে। জীবনে কোনদিন বিয়ে করেনি, প্রেম করেনি কারণ ফুল টাইম রাজনীতি করলে প্রেম বিয়ে এই ধরনের মানবিক সম্পর্কগুলাকে এক ধরনের বিচ্যুতি, ব্যতয় বা ডিস্টার্ব হিসেবে দেখা হয়। কাজেই দল ছাড়ার পর এই লোকটি দেখলেন তার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবন বলেও কিছু আর নাই। দীর্ঘ সময় ধরে দল করার কারণে ব্যক্তিগত বন্ধু-বান্ধব বলেও কিছু আর নাই। পরিবার থেকে বহু আগে বিচ্ছিন্ন হয়েছে দল করার প্রক্রিয়াটা এরকমই যেটার মধ্যে সমাজের সাথে অন্তর্ভুক্তি তো ঘটেই না, বরং সমাজের থেকে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। ৪৪ বছর বয়সে এসে দেখলেন উনি সমাজের কোথাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না, সমাজের কারো সাথে কানেক্ট করতে পারছেন না। এরকম একটা লোককে দেখেছি বছরের পর বছর নির্বাক হয়ে থাকতে।