অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডন ভ্যালি ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত এমপিপি স্টেফানি বোম্যান। গত রোববার দিনের শুরুতে তিনি স্কারবোরোর গিল্ড ইন-এ আয়োজিত পরিচিতি সভায় যোগ দেন। এরপর হালটন হিলসের দলীয় বারবিকিউ এবং সন্ধ্যায় পালমারস্টনে পার্থ-ওয়েলিংটন অ্যাসোসিয়েশনের বনফায়ারে অংশ নেন। কোথাও তিনি মানুষের কথা শুনেছেন, কোথাও নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন, আবার কোথাও সংগ্রহ করেছেন নেতৃত্বের মনোনয়নপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ২৫০ স্বাক্ষরের কয়েকটি।

বোম্যানের বিশ্বাস, তিনি একটি শক্তিশালী প্রচারণা গড়ে তুলতে পারবেন। তবে তিনি জানেন, রাজনীতির হিসাব শুধু সমর্থনের সংখ্যায় মেলে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বড় অঙ্কের অর্থ। তাই তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি, “এখন মূল বিষয় হচ্ছে অর্থ।” প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধনের শেষ দিন ৩১ জুলাই। প্রবেশ ফি দেড় লাখ ডলার, আর প্রচার ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ ডলার। হাতে সময় খুব বেশি নেই।

বোম্যান যে দলটির নেতৃত্ব দিতে চাইছেন, সেই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রয়েছে দীর্ঘ শাসন, বড় ধরনের পতন এবং হারানো অবস্থান ফিরে পাওয়ার অসমাপ্ত চেষ্টা।

অন্টারিও লিবারেলদের আধুনিক উত্থানের বড় নাম ডেভিড পিটারসন। ১৯৮৫ সালে তিনি চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে লিবারেলদের ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন। দুই বছর পর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা শীর্ষে পৌঁছে। কিন্তু ১৯৯০ সালে আগাম নির্বাচন ডেকে তিনি এমনভাবে পরাজিত হন, যা অন্টারিওর রাজনীতিতে আজও সতর্কবার্তা হিসেবে আলোচিত হয়।

এরপর লিবারেলদের আবার ক্ষমতায় ফিরতে অপেক্ষা করতে হয় ২০০৩ সাল পর্যন্ত। ডাল্টন ম্যাকগিন্টি দলকে টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ, পূর্ণদিবস কিন্ডারগার্টেন চালু এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ তাঁকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছিল। তাঁকে অনেকেই ‘এডুকেশন প্রিমিয়ার’ বলতে শুরু করেন। সাধারণ পরিবারের কাছে তাঁর আবেদন ছিল স্থিতিশীলতা ও সরকারি সেবার উন্নয়ন।

২০১৩ সালে ক্যাথলিন উইন নেতৃত্ব নেন। তিনি ছিলেন অন্টারিওর প্রথম নারী প্রিমিয়ার। শুরুতে তাঁর সরাসরি কথা বলার ধরন, সামাজিকভাবে প্রগতিশীল অবস্থান এবং ম্যাকগিন্টি যুগ থেকে নিজেকে কিছুটা আলাদা করার প্রচেষ্টা ভোটারদের আকৃষ্ট করেছিল। ২০১৪ সালে তিনি লিবারেলদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারও এনে দেন।

কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে জমে ওঠা ক্লান্তি শেষ পর্যন্ত দলটিকে গ্রাস করে। গ্যাসবিদ্যুৎকেন্দ্র কেলেঙ্কারি, বিদ্যুতের বাড়তি বিল, হাইড্রো ওয়ানের আংশিক বেসরকারীকরণ, সরকারি ঋণ ও ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ এবং সরকার সাধারণ মানুষের জীবন থেকে দূরে সরে গেছে, এমন ধারণা ক্রমে শক্ত হয়। ২০১৪ সালে ১০৭ আসনের আইনসভায় ৫৮টি আসন জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গড়া লিবারেলরা ২০১৮ সালে ১২৪ আসনের মধ্যে মাত্র সাতটিতে নেমে আসে। সেই বিপর্যয়ে দলটি আইনসভায় স্বীকৃত দলীয় মর্যাদাও হারায়। এটি ছিল অন্টারিও লিবারেলদের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়গুলোর একটি।

এরপরও দলটি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। স্টিভেন ডেল ডুকা ২০২০ সালে নেতা নির্বাচিত হলেও আইনসভার সদস্য ছিলেন না। ২০২২ সালের নির্বাচনে লিবারেলরা আটটি আসন পায়; ডেল ডুকা নিজের আসনেও হেরে পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালে সাবেক মিসিসাগা মেয়র বনি ক্রম্বি নেতৃত্ব নিয়ে দলকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। ২০২৫ সালে লিবারেলরা ১৪টি আসন পেয়ে আইনসভায় স্বীকৃত দলীয় মর্যাদা ফিরে পেলেও তৃতীয় স্থানেই থেকে যায়। ক্রম্বিও মিসিসাগা ইস্ট-কুকসভিলে নিজের আসন জিততে পারেননি।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই বোম্যান বলছেন, নতুন নেতার কুইন্স পার্কে একটি আসন থাকা জরুরি। নেতৃত্ব পেলে তাঁকে উপনির্বাচনের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি সরাসরি প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের মুখোমুখি হতে পারবেন।

বোম্যান পেশায় চার্টার্ড প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি ব্যাংক অব কানাডার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন আর্থিক খাতে কাজ করেছেন। ২০২২ সালে তিনি ক্যাথলিন উইনের সাবেক আসন ডন ভ্যালি ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত হন। অর্থনীতি, সরকারি ব্যয় এবং তরুণদের উচ্চ বেকারত্বকে তিনি সামনে আনতে চান।

তিনি প্রথমে অ্যাজাক্সের এমপিপি রব সারজানেককে সমর্থন করছিলেন এবং তাঁর প্রচারণার সহসভাপতি ছিলেন। অর্থ সংগ্রহের সংকট ও ব্যক্তিগত কারণে সারজানেক সরে দাঁড়ানোর পর বোম্যানের কাছে দলীয় সদস্য, ককাসের সহকর্মী এবং সাবেক ব্যবসায়িক সহকর্মীদের ফোন আসতে শুরু করে। বোম্যান বলেছেন, এই সাড়া তাঁকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে।

নেট এরস্কিন-স্মিথ, মাইক ক্রলি ও রব সারজানেকের অনুপস্থিতি বোম্যানকে বিস্তৃত দলীয় জোট গড়ার সুযোগ দেখাচ্ছে। এরস্কিন-স্মিথ প্রাদেশিক মনোনয়ন না পাওয়ার পর ফেডারেল এমপির পদ ছেড়েছেন এবং এখন পৌর রাজনীতিতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সাবেক ফেডারেল লিবারেল সভাপতি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের নির্বাহী মাইক ক্রলিও কয়েক মাস আগে নেতৃত্বের সম্ভাবনা থেকে সরে দাঁড়ান।

বর্তমানে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী নভদীপ বেইন্স, ইটবিকো-লেকশোরের এমপিপি ও সাবেক হাসপাতাল নির্বাহী লি ফেয়ারক্লফ, নীতি উপদেষ্টা ডিলান মারান্ডো এবং আবাসন সংস্কারের পক্ষে পরিচিত আর্থিক প্রযুক্তি প্রকৌশলী এরিক লোমবার্ডি। বোম্যান যোগ দিলে নেতৃত্বের দৌড়ে পঞ্চম প্রার্থী হিসেবে কুইন্স পার্কে তাঁর সরাসরি উপস্থিতিকেই প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

২১ জুলাই সাডবারি, ২৩ জুলাই লন্ডন এবং ১২ আগস্ট হ্যামিলটনে দলীয় সভা হবে। লেবার ডের পর প্রচারণা আরও জোরদার হবে। সদস্যরা ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ভোট দেবেন; ফল ঘোষণা করা হবে ২১ নভেম্বর।

লিবারেলদের সামনে এখন শুধু নতুন নেতা বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নয়; বড় চ্যালেঞ্জ হলো টরন্টো ও অটোয়ার পরিচিত ঘাঁটির বাইরে ছোট শহর, শিল্পাঞ্চল, উত্তর অন্টারিও এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে দলটিকে আবার বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। স্টেফানি বোম্যানের আছে আর্থিক জ্ঞান, আইনসভার আসন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন। তবে তাঁর আসল পরীক্ষা হবে, লিবারেলদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের তিনি কতটা আবার দলের দিকে ফেরাতে পারেন।

তথ্যসূত্র:
Toronto Star (July 13, 2026)
Ontario Liberal Party (July 14, 2026)



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews