অ্যাপ্লের বহু প্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুয়ো’ প্রকাশ্যে আসতেই এর দাম নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ফোনটির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই চোখ কপালে তুলেছে এর দাম। নেটপাড়ায় তাই প্রশ্ন উঠেছে এই বিপুল অর্থ খরচ করে আইফোন কেনার বদলে আর কী কী কেনা বা করা সম্ভব?
অ্যাপ্লের নতুন এই ফোনে রয়েছে দুটি স্ক্রিন ব্যবহারের সুবিধা। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ফোনটি প্রকাশ্যে আনা হলেও বাজারে বিক্রি শুরু হবে অক্টোবরের শেষ দিকে। জানা গিয়েছে, ফোনটির বেসিক মডেলের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ২,৯৯,৯০০ টাকা। এই মডেলে থাকছে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। ১৬ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হবে এবং ২৩ অক্টোবর থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা।
অন্য দিকে, ২ টেরাবাইট স্টোরেজযুক্ত সর্বোচ্চ ভ্যারিয়েন্টটির দাম ৪,৪৯,৯০০ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে সেটি কিনতে।
ফোনটির দাম প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা রকম হিসাব-নিকাশ। অনেকের মতে, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা শুধু একটি স্মার্টফোনে খরচ না করে সেই অর্থে আরও অনেক প্রয়োজনীয় বা বিলাসবহুল জিনিস কেনা সম্ভব।
দু’জনের ব্যাঙ্কক ভ্রমণ
ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা দিয়ে দু’জনের ৫ থেকে ৭ দিনের ব্যাঙ্কক সফর করা সম্ভব। নেটাগরিকদের হিসাব অনুযায়ী, বিমানভাড়া, হোটেল, খাবার, স্থানীয় পরিবহণ এবং দর্শনীয় স্থান ঘোরার খরচ মিলিয়ে দু’জনের এমন একটি সফরে আনুমানিক ১.৩ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। ফলে আইফোনের সবচেয়ে দামি মডেল কেনার পরিবর্তে একই অর্থে একাধিক বার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
কেনা যেতে পারে সোনা
সোনার দামও আলোচনায় এসেছে। নেটাগরিকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকায় ২০ থেকে ২৫ গ্রাম সোনা কেনা সম্ভব। বর্তমান দরের ভিত্তিতে ২৫ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ৩.৭৩ লক্ষ থেকে ৩.৮৮ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। ফলে দামি স্মার্টফোনের পরিবর্তে সেই অর্থ সোনায় বিনিয়োগ করাও একটি বিকল্প।
আসতে পারে মারুতি অল্টো কে১০
আইফোন ‘ডুয়ো’র সর্বোচ্চ ভ্যারিয়েন্টের দামের কাছাকাছি অর্থে একটি ছোট গাড়িও কেনা সম্ভব। শহর ও প্রযোজ্য খরচের ভিত্তিতে মারুতি সুজ়ুকি অল্টো কে১০-এর এসটিডি (ও) পেট্রল মডেলের অন-রোড দাম প্রায় ৪.৪৫ লক্ষ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকার আইফোনের পরিবর্তে একটি নতুন গাড়ি কেনার কথাও ভাবা যায়।
এফডিতে রাখলে মিলবে সুদ
শুধু খরচ নয়, এই অর্থ বিনিয়োগও করা যেতে পারে। ফিক্সড ডিপোজ়িট বা এফডি-তে টাকা রাখলে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। ভারতে ব্যাঙ্ক ও মেয়াদ অনুযায়ী এফডির সুদের হার সাধারণত ৬ থেকে ৭ শতাংশের আশপাশে থাকে। ৪,৪৯,৯০০ টাকা এক বছরের জন্য ৬.৫ শতাংশ সুদে বিনিয়োগ করলে সরল হিসাবে বছরে প্রায় ২৯,২৪৩ টাকা সুদ পাওয়া যেতে পারে।
অর্থাৎ, অ্যাপ্লের নতুন ফোল্ডেবল ফোনটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় হলেও, প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা খরচের আগে বিকল্পের তালিকাটিও বেশ লম্বা। বিদেশ ভ্রমণ, সোনা, নতুন গাড়ি কিংবা স্রেফ ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ একটি দামি স্মার্টফোনের দামে মিলতে পারে এমন বহু বিকল্প।
আরটিভি/এসকে
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন