অমর একুশে বইমেলার নবম দিনে আজ শুক্রবার বই এসেছে ১৯৯টি। সকাল ১১ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলে। শিশুপ্রহর ছিল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত।

সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সভাগৃহে অমর একুশে শিশু—কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক—শাখায় ১০ জন, খ—শাখায় ১০ জন এবং গ—শাখায় ১০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন- নাসিম আহমেদ, টিটো মুনশী ও অনন্যা লাবণী পুতুল।

বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ : কলিম শরাফী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অণিমা রায়। আলোচনায় অংশ নেন সাইম রানা। সভাপতিত্ব করেন সাধন ঘোষ।

অণিমা রায় বলেন, কলিম শরাফী সেই বিরল প্রতিভার অন্তর্গত, যার কণ্ঠস্বর সংগীতের সুষমা বহনের পাশাপাশি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের সঙ্কটময় মুহূর্তে হয়ে উঠেছিল অস্তিত্ব—সংরক্ষণের উচ্চারণ। তিনি যেমন দীর্ঘকাল সঙ্গীত সাধনা করেছেন, তেমনি সঙ্গীতকে প্রতিষ্ঠিত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক অবদমনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল অনমনীয়। অন্যদিকে, সংগীতের শুদ্ধতা ও সংযমে অবিচল থেকে এক আদর্শনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন। কলিম শরাফীর কণ্ঠস্বর সেই বিরল ধারার অন্তভুর্ক্ত, যেখানে নান্দনিকতা কোনো চটুল প্রদর্শন নয়, বরঞ্চ এক নৈতিক অনুশাসন।

অণিমা রায় আরো বলেন, তিনি শিল্পকে অভিজাত পরিসরের একচ্ছত্র সম্পদ হিসেবে স্বীকার করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্প—সঙ্গীতের আসল অধিকারী সাধারণ মানুষ-যাদের শ্রমে সমাজের কাঠামো নির্মিত হয়। এই বিশ্বাস তাকে শিল্পকে গণমুখী করার প্রয়াসে উদ্বুদ্ধ করে।

সাইম রানা বলেন, শিল্পী হিসেবে কলিম শরাফী সচেতনভাবে রাজনীতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ব্যক্তিত্ব ও দরাজ কণ্ঠ দিয়ে তিনি মানুষকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত আন্দোলনের পাশাপাশি সাংগঠনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও এদেশে কিশোর—তরুণদের সংগীতচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছেন।

তিনি বলেন, তিনি জনমানুষের জন্য সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং তার নিজের বীক্ষণ ও প্রজ্ঞাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

সাধন ঘোষ বলেন, কলিম শরাফী ছিলেন বাংলাদেশের একজন সর্বজনীন সঙ্গীত গুরু। তার বহুমাত্রিক প্রতিভা দিয়ে তিনি আমাদের জীবনকে আলোকিত করেছেন। তার সঙ্গীতের মাঝে একজন সত্যিকারের সঙ্গীত সাধকের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মৃদুল মাহবুব ও এহসান মাহমুদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠের আসর বসে।

আগামীকাল ৭ মার্চ শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর। এছাড়া, আগামীকাল একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সঙ্গীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ : নূরজাহান বেগম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেবেন সোহরাব হাসান। সভাপতিত্ব করবেন লুভা নাহিদ চৌধুরী। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews