এক সময়ের বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেত্রী নাসিমা খান আজ অসহায় এক মা। প্রায় আশি বছর বয়সী এই অভিনেত্রী অঝোরে কাঁদছেন তার ছোট ছেলে নাবিল নাসির কুশলের জন্য। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি কুশল। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কুশল। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিন দিন চেষ্টার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নাসিমা খান জানান, তার ছেলে নাবিল নাসির কুশল সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এর আগে কখনো এমনভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন,“আমার ছেলের জন্য অন্তরটা পুড়ে যাচ্ছে। সে কোথায় আছে, কার কাছে আছে, কী খাচ্ছে? সে কি কারো কাছ থেকে চেয়ে খাচ্ছে? এগুলো ভেবে আমার হৃদয়টা ফেটে যাচ্ছে! কেউ আমার ছেলেটাকে খুঁজে এনে দাও!”

অভিনেত্রীর আশঙ্কা, মানসিক সমস্যার কারণে কুশল হয়তো নিজের ঠিকানা স্পষ্ট করে বলতে পারবে না। “তার তো একটু সমস্যা আছে, সাভারের নিজের বাড়ির ঠিকানা হয়তো বলতে পারবে না; কিন্তু নিজের নাম বলতে পারবে,”— বলেন তিনি।

তার একমাত্র প্রার্থনা, “আমার এই সহজসরল ছেলেটা যেন কোনো খারাপ মানুষের পাল্লায় না পড়ে। কেউ যেন তাকে খারাপ কিছু না করে।”

নাসিমা খানের দুই ছেলে। বড় ছেলে, ডাকনাম উপল, পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সেখানেই একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। গত ডিসেম্বরেই অল্প কয়েক দিনের ছুটিতে দেশে এসে মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়ে গেছেন তিনি। ছোট ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তিনিও ভেঙে পড়েছেন।

নাসিমা খান জানান, “ও (উপল) বারবার ফোন করছে, জানতে চাইছে আমরা খুঁজে পেয়েছি কিনা। সাত দিনের ছুটিতে দেশে আসতে চাইছে। আমি এই মুহূর্তে তাকে মানা করেছি।”

স্বামীহারা এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি তো একা মানুষ। ছেলেদের বাবাও নেই। আমার ড্রাইভার সব খোঁজ খবর নিচ্ছে, আত্মীয়স্বজনরাও চেষ্টা করছে। হাসপাতালেও ছুটে যাচ্ছি, কিন্তু কোথাও আমার কুশলকে খুঁজে পাচ্ছি না। যে কোনো কিছুর মূল্যে আমার ছেলেকে কেউ আমার কাছে খুঁজে এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে জাগো হুয়া সাভেরা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক। পরে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি জনপ্রিয়তা পান। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। সবশেষ ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ছবি ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় দেখা যায় অভিনেত্রীকে।

এক সময় যিনি রূপালি পর্দায় ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও দৃপ্ত, আজ সেই নাসিমা খান কেবলই এক অসহায় মা! যার একটাই আবেদন, তার ছেলেকে যেন নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়, কেউ নাবিল নাসির কুশলের সন্ধান পেলে আশুলিয়া থানায় অথবা পরিবারের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews